অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশীদের বিজয় কেতন

titu-nazmul

বদরুল আলম (সম্পাদক দেশ-বিদেশ): গত ৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ব্যাপক উৎসাহের মধ্য দিয়ে সিডনির সিটি কাউন্সিল নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। এই নির্বাচনে লেবার দলের হয়ে কাউন্সিলর পদে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ নাজমুল হুদা এবং লিবারেল দলের হয়ে কাউন্সিলর পদে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মোহাম্মদ শাহে জামান টিটু।
এই জয়কে উভয় লেবার ও লিবারেল পার্টি ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছে। কেননা এই দুটি ওয়ার্ড থেকে প্রথমবারের মত দুজন বাংলাদেশি লেবার ও লিবারেল পার্টি প্রার্থী সিডনির ক্যান্টারবারী-ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের রোজল্যান্ড থেকে নির্বাচনে জয় পেল। এ ওয়ার্ডে নির্বাচনে লেবার পার্টির জয় পাওয়া অপরজন হলেন নাদিয়া সালেহ লেবানিজ বংশোদ্ভূত মুসলিম মহিলা।
মোহাম্মদ হুদা ২০০৬ সালে সেন্ট্রাল কুইন্সল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি কমিউনিটি সার্ভিস ডিপার্টমেন্টের চাকুরী করছেন এবং এর পাশাপাশি তিনি ইংরেজি পত্রিকা ‘দ্য পেন এন্ড পেপার’র প্রকাশক হিসাবে রয়েছেন। এছাড়া রিভারউড কমিউনিটি সেন্টারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।
জনাব শাহে জামান টিটু একজন ব্যাবসায়ী। তিনি এই এলাকা থেকে বাংলাদেশী হিসাবে ফেডারেল নির্বাচন করেছিলেন তবে জয়লাভ করেননি। তিনি সিডনিতে প্রায় ১৫ বছর যাবত বসবাস করছেন। তাঁর গ্রামের বাডী ফেনিতে কিন্তু বড় হয়েছেন ঢাকার মিরপুরে।
নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর জনাব হুদা এবং জামান বলেন, আমাদের কমিউনিটি আমাদেরকে ভোটের মাধ্যমে যে সহায়তা প্রদান করেছে তার জন্য আমরা কৃতজ্ঞ। তাঁরা আরো বলেন, সকল কমিউনিটির জন্য কাউন্সিলর হিসেবেও ভালো কাজ করে যাবেন।
এ ছাড়াও সিডনির সিটি কাউন্সিলের নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত আরো কয়েকজন ব্যক্তিবর্গ। তাঁরা হলেন, লিংকন শফিকউল্লাহ প্রতিদ্ব›দ্বীতা করেন ক্যান্টারবারী-ব্যাংকসটাউন এলাকার রোজল্যান্ড থেকে, সুমন সাহা ওয়েন্টওয়ার্থভীল ওয়ার্ড থেকে। উল্লেখ্য শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সুমন সাহের জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। পোস্টাল ও প্রিফারেন্স ভোটের উপর ভিত্তি করে তিনি জয়লাভ করতে পারেন। এছাড়া এনামুল হক বেসহিল ওয়ার্ড থেকে এবং আকিল আহমেদ ক্যান্টারবারী-ব্যাংকসটাউন এলাকা থেকে প্রতিন্দ›দ্বীতা করেন।
সেই ৭১ সালের দিকে বাঙ্গালিরা প্রথম ছাত্র হিসেবে অস্ট্রেলিয়াতে আসা শুরু করে এবং পারবর্তীতে তাদের মধ্যে কেউ কেউ স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তবে ১৯৯০ সাল থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বাংলাদেশীরা অস্ট্রেলিয়াতে বসবাস শুরু করেন এবং তখন থেকেই অস্ট্রেলিয়াতে নানা চাকুরি ও ব্যবসায় নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেন। এভাবে প্রায় দ্ইু দশক পরিশ্রম ও প্রচেষ্টার মাধ্যমে আজ এখানে বাঙ্গালিরা একটি পর্যায় পৌছে দিয়েছে নিজেদেরকে। এমনকি প্রথম সারির রাজনীতিতেও এখন বাঙ্গালিরা অংশগ্রহণ করছেন। ষ্টার্থফিল্ড, প্যারামাট্টা ও ক্যাম্বলটাউনে বর্তমানে বাঙ্গালিরা কাউন্সিলর হয়ে নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে কাজ করছেন। আজ তাঁদেরই সাথে ক্যান্টারবারী-ব্যাংকসটাউনে যুক্ত হলেন আরো দুইজন প্রবাসি বাঙ্গালি জনাব নাজমুল হুদা এবং শাহে জামান টিটু। হয়ত সেই দিন আর বেশী দুরে নয় যখন প্রবাসি বাঙ্গালিরা মেয়র এবং পার্লামেন্ট এমপি হিসেবে এই অস্ট্রেলিয়ার বুকে নির্বাচিত হবেন। পরিশেষে বিজয়ী দুই জন নতুন কাউন্সিলরকে দেশ-বিদেশ পত্রিকার পক্ষ থেকে জানাই অভিন্দন। এবং বিজেতাদের প্রতি রইল আগামিতে সফল হওয়ার শুভকামনা। আগমীতে হয়ত তাঁরাও নির্বাচিত হয়ে কমিউনিটির সেবা করারা সুযোগ পাবেন।

Authors
Top