খন্দকার জাহিদ হাসানের সুরের মূর্ছনায় শুভমিতার গানের অ্যালবাম “সুরের বন্যা নাচে”

IMG_3625

সাক্ষাতকার গ্রহনেঃ নাইম আবদুল্লাহ

 খন্দকার জাহিদ হাসান মূলতঃ প্রাযুক্তিক পশ্চাৎপটের একজন বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ হলেও শিল্প-সাহিত্যের প্রতি তাঁর দুর্নিবার আকর্ষণ। কবিতা, ছড়া, ছোটগল্প, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ও সমকালীন জীবনবোধভিত্তিক নিবন্ধ রচনায় তিনি সিদ্ধহস্ত। তাঁর রচনায় আকাশচুম্বী কল্পনাবিলাস, ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, সূক্ষ্ম রসবোধ ও মানবতাবোধের যুগপৎ সমাবেশ অনায়াসেই ঘটে থাকে। এক সময় বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক সমূহে ‘হাসান জাহিদ’ নামে উপ-সম্পাদকীয় লিখতেন। লেখালেখি ছাড়াও গানের বাণী, সুর ও প্রাযুক্তিক বাদ্য রচনা অবসর সময়ের প্রিয় কাজ।

অস্ট্রেলিয়াবাসী এই লেখক একজন সৌখিন তবলাবাদক। তাছাড়া সঙ্গীত রচনা তাঁর অন্যতম নেশা। খন্দকার জাহিদ হাসানের নিজস্ব সুরারোপিত স্বরচিত গানের সংখ্যা শতাধিক। তিনি কম্পিউটারভিত্তিক ভার্চুয়াল স্টুডিও টেকনোলোজি ইন্স্ট্রুমেণ্ট ব্যবহারের মাধ্যমে মিউজিক কম্পোজিশন করে থাকেন।
খন্দকার জাহিদ হাসান রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স ইঞ্জিনীয়ারিং–এ স্নাতক ডিগ্রীপ্রাপ্ত।

তাঁর কথা, সুর ও যন্ত্রসঙ্গীত নিয়ে “সুরের বন্যা নাচে” নামের একটি গানের অ্যালবাম যুগপৎ ভাবে অডিও ও ভিডিও আকারে শিগ্রী বের হতে যাচ্ছে। এতে রয়েছে দুই বাংলার জনপ্রিয়তম গায়িকা সুকণ্ঠী শুভমিতা ব্যানার্জির গাওয়া দশটি মনমাতানো আধুনিক বাংলা গান। দুটি দ্বৈত-সঙ্গীতে তাঁর কণ্ঠজুটি হিসেবে রয়েছেন টলিউড তথা কোলকাতার সাড়া জাগানো সঙ্গীত-প্রতিভা কণ্ঠশিল্পী সুজয় ভৌমিক।

সিডনী, কোলকাতা ও ঢাকা টীমের এক সমন্বিত প্রচেষ্টার ফসল এই ভিডিও ও অডিও অ্যালবামঃ “সুরের বন্যা নাচে”। এতে থাকছে বৈচিত্র্যময় গানসমূহের এক অভূতপূর্ব সমাবেশঃ পাঁচটি অবিনশ্বর প্রেমের গান, দুটি মনোমুগ্ধকর নাচের গান, একটি প্রার্থনা সঙ্গীত, একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীভিত্তিক সঙ্গীত এবং আদম-হাওয়ার অমর উপাখ্যানভিত্তিক একটি সঙ্গীত। গানের ভিডিওগুলি বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার একঝাঁক উচ্ছল ভিডিও তারকা এবং স্বয়ং শিল্পীযুগলের সমন্বয়ে নির্মিত। খন্দকার জাহিদ হাসানের প্রাণছোঁয়া কথা, আবেগঘন সুর ও হৃদয়গ্রাহী যন্ত্রসঙ্গীতসমৃদ্ধ এই গানগুলিতে রয়েছে শাশ্বত বাংলার চিরন্তন সুরের চির-অম্লান আর মর্মস্পর্শী আবেদন।

শীতের এক মিষ্টি রোদের সকালে মুখোমুখি হয়েছিলাম এই প্রতিভাধর ব্যক্তিত্বের ইঙ্গেলবার্নস্থ বাসভবনে।

একজন বিজ্ঞানমনষ্ক মানুষ হয়েও এই সুদূর প্রবাসে আপনি কিভাবে বাংলা শিল্প-সাহিত্যের প্রতি অনুপ্রাণিত হলেন?

খ জা হাঃ এই প্রশ্নের দুটি প্রেক্ষিত রয়েছে- বিজ্ঞানমনষ্কতা ও সুদূর প্রবাস। প্রথমটির আলোকে বলা যায় যে, বিজ্ঞানমনষ্কতার সঙ্গে শিল্প-সাহিত্যের কোনো বিরোধ নেই। বরং এই দুটি বিষয় একে অপরের পরিপূরক। আমি ছোটবেলার সেই স্কুল-জীবন থেকেই শিল্প–সাহিত্যের প্রতি অনুরক্ত। দেখুন, প্রাক-স্বাধীনতাকালে এক সময় মনে করা হত যে, যারা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সাথে পেশাগতভাবে জড়িত, শিল্প-সাহিত্য সম্বন্ধে তেমন কোনো ধারণা বা সেক্ষেত্রে তেমন কোনো দখল তাঁদের থাকার কথা নয় এবং সে আমলের বাস্তব চিত্রটিও আসলে সেরকমই ছিল। পক্ষান্তরে যারা শিল্পী ও সাহিত্যিক, তাঁদের সেভাবে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বোঝার দরকার নেই। কিন্তু বর্তমানকালে আমাদের জীবনের পরতে পরতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এমনভাবে জেঁকে বসছে যে, শিল্প-সাহিত্যের মধ্যে দিয়ে জীবনের নানা আলেখ্য সফলভাবে তুলে ধরতে গেলে বা এক কথায় সফল শিল্পী বা সাহিত্যিক হতে গেলে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দস্তুর মতন দখল থাকাটা ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশের হালের নামকরা সব লেখকদের কথাই চিন্তা করুনঃ হুমায়ুন আহ্‌মেদ, মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, আনিসুল হক- এঁরা সবাই বিজ্ঞান ও প্রাযুক্তিক প্রেক্ষাপটেরই মানুষ।

আর আপনার প্রশ্নের দ্বিতীয় প্রেক্ষিত সম্বন্ধে বলতে পারি যে, ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে। আমরা সবাই যেন একেকটি ঢেঁকির মতোই। তাই মাতৃভাষার প্রতি কারো অনুরাগের ব্যাপারে বা মাতৃভাষায় কারো সাহিত্য চর্চার ক্ষেত্রে প্রবাস জীবন কোনো বাধা হতে পারে না বলেই আমার বিশ্বাস।

আমরা জানি আপনি কবিতা, ছড়া, ছোটগল্প, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী সমকালীন জীবনবোধভিত্তিক নিবন্ধ রচনায় সিদ্ধহস্ত, এই সম্পর্কে আমাদের পাঠকদের কিছু বলবেন কি?

খ জা হাঃ আমি কোনো নির্দিষ্ট বা বিশেষ বিষয়ে লিখি না। জীবনের সকল বিচিত্র বিষয়ই আমাকে আকৃষ্ট করে এবং সে সব নিয়ে লিখতে চেষ্টা করি। এ-ব্যাপারে আমার নিজের তেমন কিছু বলার নেই। পাঠকবৃন্দই তার মূল্যায়ন করবেন।

আপনার রচনায় আকাশচুম্বী কল্পনা বিলাস, ব্যঙ্গ- বিদ্রুপ, সূক্ষ্ম রসবোধ মানবতাবোধের যুগপৎ সমাবেশ ঘটেছে, এই সমন্বয়ের পিছনে কোন দিক নির্দেশনা কিংবা তন্ত্র মন্ত্র আছে কি?

খ জা হাঃ ঠিক দিক নির্দেশনা বা তন্ত্রমন্ত্র বলতে যা বোঝায়, সে ধরণের একটা ব্যাপার কেবল শিল্পী বা লেখকদের নয়, সমাজের সব পর্যায়ের মানুষেরই থাকে বা থাকা দরকার। একে আদর্শও বলা যেতে পারে। আদর্শ ও লক্ষ্য ছাড়া তো মানুষ একেকটি কাণ্ডারিবিহীন জলযানের মতো। তবে সবার ওপরে মানবতাবোধকে সমুন্নত রাখাই আমাদের সকলের দায়িত্ব। সকলের মতো আমিও তা করতে চেষ্টা করে থাকি আমার দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে, আমার সৃজনশীল শিল্পকর্মের মাধ্যমে।

 এযাবৎ আপনার নিজস্ব সুরারোপিত স্বরচিত গানের সংখ্যা প্রায় শতাধিক। আপনার গানের জগত সম্বন্ধে কিছু বলবেন কি?

 খ জা হাঃ অনেকের মতো আমিও সঙ্গীত খুব ভালবাসি। অন্যের ভাল গানের একজন ভাল শ্রোতা আমি। তবে একজন শ্রোতা হওয়ার পাশাপাশি আমি নিজেও গান রচনা করে আসছি। এই সব গানের সুর আমার নিজেরই করা। বাংলাদেশে থাকাকালে রেডিও ও টেলিভিশনে বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া আমার বেশ কিছু গান প্রচারিত হয়েছে। তবে পেশাগত ও অন্যান্য কারণে ঐ ক্ষেত্রে যথেষ্ট সময় দিতে পারিনি। তা ছাড়া কণ্ঠশিল্পী, যন্ত্রশিল্পী, অনুষ্ঠান প্রযোজক, প্রমুখ ব্যক্তিবর্গের কাছে ধর্না প্রদানের ব্যাপারটা আমার কাছে বেশ কষ্টসাধ্য বলেই ঠেকত। বর্তমানে কম্পিউটারভিত্তিক ভার্চুয়াল স্টুডিও টেকনোলোজি ব্যবহারের মাধ্যমে বাসাতে বসেই আমি আমার স্বরচিত গানের যন্ত্রসঙ্গীত বা ব্যাকগ্রাউণ্ড মিউজিক তৈরি করছি। এর ফলে এক দিক দিয়ে শিল্পী ও কলাকুশলীদের পেছনে ছোটার ঝামেলা অনেকটা কমে গেছে। তবে আবার যন্ত্রসঙ্গীতের সবটাই আমার নিজেকে বাজাতে ও সৃষ্টি করতে হচ্ছে বলে অন্য দিকে ঝক্কি বেড়েছেও বটে। কিন্তু তবুও আমি সন্তুষ্ট। কারণ একমাত্র কণ্ঠ বা ভোকাল অংশ ছাড়া রচিত গানের বাদবাকী সবটা আমার নিজেরই সৃষ্টি বিধায় এক দারুণ ধরনের চূড়ান্ত পর্যায়ের আত্মতৃপ্তি আমি এখন লাভ করছি।

 গান, সুর তাল ও লয় এর মাঝে আপনি কিভাবে যোগসূত্র স্থাপন করেন?

 খ জা হাঃ গান ও সুরের ব্যাপারটা শিশুকাল হতেই আমাকে ভীষণভাবে আকর্ষণ করে এসেছে, দোলা দিয়ে এসেছে। সেই সাথে ভূত চেপে বসলঃ যে কোন বিষয়ের ওপর নিজে নিজেই গান ও সুর তৈরি করা। কবি Sarah Josepha Hale-এর একটা nursery rhyme “Mary had a little lamb”-এর কথা নিশ্চয় আপনাদের সকলের মনে আছে? ক্লাস ফোরে আমি সেই ছড়াটির একটা সুর দিই। সেটিই আমার জীবনে দেওয়া প্রথম সুর। অবশ্য সেটা আমি কখনোই প্রচার করিনি। তবে ভবিষ্যতে ইচ্ছে রয়েছে। পরে বড় হয়ে জানতে পারলাম যে, পাশ্চাত্যে ঐ ছড়াটির ওপর ভিত্তি করে একটি গান ইতিমধ্যেই রয়েছে। গানটি শুনেওছি। মজার ব্যাপার হলঃ আমার নিজের দেয়া সুরের সাথে আসল সুরের কোন মিলই নেই এবং সেটাই স্বাভাবিক। কারণ ঐ সুরটি আমি নিজে দেয়ার আগে কখনোই আসল গানটি শুনিনি।

যাই হোক, একটু পরিণত বয়সে আমি তবলা বাজানো শিখলাম। তাল ও লয়ের ব্যাপারটা ভালভাবে বোধগম্য হল। আমার আগ্রহ ও ঝোঁক দেখে গানের স্কুলের শিক্ষক আমাকে পৃথকভাবে বিশেষ তত্ত্বাবধানে কিছু তালিমও দিলেন। সেই বিশেষ তালিমের বিষয়বস্তু ছিল গানের কর্ড, ক্রসিং, হামিং, হারমোনাইজেশন, প্রিল্যুড, ইন্টারল্যুড, স্থায়ী, অন্তরা, সঞ্চারী, ইত্যাদি। ফলে গানের কথা, সুর, তাল ও লয়ের মাঝে সমন্বয় সাধন করাটা আমার পক্ষে সহজতর হয়ে দাঁড়াল।

 দুই বাংলার জনপ্রিয়তম গায়িকা সুকণ্ঠী শুভমিতা ব্যানার্জির গাওয়া দশটি মনমাতানো আধুনিক বাংলা গান নিয়ে আপনার অ্যালবাম “সুরের বন্যা নাচে” অডিও ও ভিডিও আকারে খুব শিগ্রী বের হতে যাচ্ছে। এই ব্যাপারে আপনার অনুভূতি আমাদের পাঠক শ্রোতাদের বলবেন কি?

খ জা হাঃ এই প্রশ্নের উত্তর অল্প কথায় দেয়া একটু কঠিন। তবু চেষ্টা করছি।

শুভমিতা ব্যানার্জি বয়সে নবীন হলেও খুবই উঁচুদরের একজন কণ্ঠশিল্পী। তাঁর কণ্ঠ বহুল-অনুশীলিত ও রাগচর্চিত বলে তিনি অবলীলায় গেয়ে যেতে পারেন সব ধরণের গান। তাঁর সুললিত ও সুরেলা কণ্ঠে যে-কোনো ভাল গানই হয়ে ওঠে ভীষণ শ্রুতিমধুর। শুভমিতার গলায় এক দুর্লভ ধরণের বহুমুখিতা বা বিচিত্রমুখিতা (versatility) রয়েছে, যার কারণে এই শিল্পী যে-কোনো ধরণের গানই অত্যন্ত নৈপুণ্যের সাথে গাইতে সক্ষম। এ ছাড়া রাগাশ্রয়ী এবং নগরভিত্তিক আধুনিক জীবনবোধসম্পন্ন ও নান্দনিক ধাঁচের গান পরিবেশনেও তাঁর জুড়ি মেলা ভার। আর তার প্রমাণ শুভমিতা তাঁর অনেক গানের মাধ্যমেই দিয়েছেন। তা ছাড়া তিনি বাউল সুরের ও লোকগীতি ঢং-এর গান পরিবেশনেও সমানভাবে পারদর্শী। তাই আমি ব্যক্তিগতভাবে একটা শুভ উদ্যোগ নিয়ে ফেলি।

তার আগে ছোট্ট একটি কথা বলে নিই। আধুনিক গানের অ্যালবাম সম্বন্ধে আমার একটি বিনীত মত রয়েছে। তা হলঃ একই ধরণের গান, তা সে যতো উন্নত মানেরই হোক না কেন, ক্রমাগত শোনানোর ব্যাপারটা আমার কাছে বরাবরই একপেশে বলে মনে হয়, যা শ্রোতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। এ যেন অভ্যাগতদের কেবলই পোলাও বা বিরিয়ানী খাইয়ে যাওয়ার মতো একটি ব্যাপার। সেই কারণে আমি সাধারণত বিভিন্ন স্বাদের ও নানা ধাঁচের গান রচনা করে থাকি। আমার গানগুলির এই বৈচিত্র্যের কথা বিবেচনা করে শুভমিতার কণ্ঠকেই আমার সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে আমার প্রস্তাবিত অ্যালবামের স্বরচিত দশটি গান (in raw form) তাঁকে শোনালে তিনি গানগুলি গাইতে রাজী হন। অ্যালবামটির দশটি গানের কথা ও সুরই আমার। সাবির্ক বাদ্য রচনাও আমি নিজেই সম্পন্ন করি- অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্রীর শরণাপন্ন আমাকে হতে হয়নি। কম্পিউটারভিত্তিক ভার্চুয়াল স্টুডিও টেকনোলোজি ব্যবহার করে আমাকে এই মিউজিক কম্পোজিশন করতে হয়েছে।

এই দশটি গানের মধ্যে আধুনিক ঢঙের গানগুলির ব্যাপারে আগে থেকেই আমি পুরোপুরিভাবে নিশ্চিন্ত ছিলাম। বলা বাহুল্য, শুভমিতা গানগুলি বিস্ময়করভাবে ভাল গেয়েছেনও। কিন্তু এই অ্যালবামের গোটা তিন-চারেক গান তো একেবারেই বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের দেহাতি সুরের গেঁয়ো উচ্চারণসমৃদ্ধ গান। এখন আর বলতে বাধা নেই যে, এই পল্লীগীতি ঘরানার গান ক’টি শুভমিতা কেমন গাইবেন, সে ব্যাপারে প্রথমদিকে খুব সামান্য হলেও এক ধরণের দুশ্চিন্তা আমার ছিল- তা তিনি যতো বড় মাপের শিল্পীই হন না কেন। কারণ আফটার অল্ শুভমিতা বাংলাদেশের ভাটি অঞ্চলের মেয়ে নন। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হল, আমি তাঁকে যে-রকমভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম, ঠিক সেভাবেই তিনি এই গানগুলি একেবারে ঐ এলাকার অবিকল গ্রাম্য উচ্চারণে ও ঢঙেই গেয়েছেন। তাতে নতুন করে আবার তাঁর অসাধারণ শিল্পীসত্তার পরিচয় পেলাম।

এখানে বিশেষভাবে উল্লেখ করা দরকার যে, “সুরের বন্যা নাচে” অ্যালবামের কেবল অডিও ভার্শন নয়, ভিডিও ভার্শনও মুক্তি পাওয়ার পথে। এই অ্যালবামের প্রচার ও বাজারজাতকরণের ব্যাপারে আপনাদের সকলের সহৃদয় ও সার্বিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।

জাহিদ ভাই, আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।

এই সাক্ষাতকার গ্রহণ ও প্রচারের উদ্যোগ নেয়ার জন্য নাইম ভাই আপনাকেও আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

Authors
  
Top