চাঁদ দেখা সংক্রান্ত প্রশ্নোত্তর সংকলন: সংকলন ও সম্পাদনা: শিবলী সোহায়েল

moon

ভূমিকাঃ প্রতিবছর রামাদান মাসের শুরু ও শেষে, এবং যিলহজ্জ মাসের দশ তারিখে ঈদ-উল-আযহার দিন নির্ধারণ প্রসঙ্গে মুসলিম বিশ্বে মতপার্থক্য দেখা যায়। টেলিফোন, ইন্টারনেট ইত্যাদি বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যমের উন্নতির ফলে পুরো পৃথিবী এখন গ্লোবাল ভিলেজ হয়ে গিয়েছে। সুতরাং পৃথিবীর এক জায়গার খবর অনেক দূরের আরেক জায়গার মানুষ সাথে সাথে জানতে পারছে। কখন কোন দেশে রামাদান শুরু হচ্ছে, কিংবা কোন দিন ঈদ পালন করা হচ্ছে তা আরেক দেশের মানুষ সহজেই জানছে।

এ প্রেক্ষিত হিসেবে রেখেই অনেকে মনে করছেন স্থানীয়ভাবে খালি চোখে চাঁদ দেখে এসব দিন নির্ধারণ করতে হবে। আবার কেউ মনে করছেন বৈজ্ঞানিক হিসাব-নিকাশের মাধ্যমে চাঁদ দেখার বিষয়টি নির্ধারণ করার অবকাশ আছে। আরেকটি মতামত হলো, কোন এক জায়গায় চাঁদ দেখা গেলে সে খবর যেখানে পৌছানো যাবে, ঐ স্থানেও তা প্রযোজ্য হবে। ফলাফলস্বরুপ দেখা যায়, একই এলাকার কিছু মানুষ আজ রামাদানের রোযা রাখা শুরু করছেন, আবার অন্যদিকে অন্য কিছু মানুষ আগামীকাল শুরু করবেন।

চাঁদ দেখা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি নিয়ে অনইসলাম ডটনেট এবং ইসলামকিউএ ডটইনফো থেকে বাছাইকৃত চারটি প্রশ্ন ও উত্তরের বাংলা অনুবাদ সংকলন, এবং সাথে ভূমিকা এবং উপসংহার যুক্ত করেছেন আল-ইমাম ইউনিভার্সিটি রিয়াদ ও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার গ্রাজুয়েট, এবং সোশিওলজি অফ রিলিজিয়নের পিএইচডি গবেষক ফারুক আমিন। এই আলোচনাগুলো একত্রিত ভাবে বিষয়টি নিয়ে একটি সমন্বিত ধারণা দিতে সহায়ক হবে।

প্রথম প্রশ্নটি করেছিলেন মাহা নামের একজন মুসলিমাহ। অনইসলাম ডটনেটে এর উত্তর দিয়েছেন ড. সানো কুতুব মোস্তফা। গিনিয় বংশোদ্ভুত ড. মোস্তফা উসুল আল-ফিকহের একজন অধ্যাপক। তিনি একই সাথে আফ্রিকান রাষ্ট্র গিনির ধর্মমন্ত্রী, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার ডেপুটি রেক্টর এবং ওআইসির ইন্টারন্যাশনাল ফিকহ একাডেমীর ডেপুটি চেয়ারম্যান। মনে রাখা প্রয়োজন, ড. মোস্তফা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের প্রতিনিধি এবং মূলতঃ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশেই আজীবন বসবাস করেছেন। 

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। আমরা জানি, রামাদান মাস সন্নিকটে। আমার প্রশ্ন হলো, কিভাবে আমরা রামাদানের শুরু এবং শেষের দিন নির্ধারণ প্রসঙ্গে মতপার্থক্য এড়াতে পারি?

ওয়া আলাইকুমুসসালাম। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার নামে, তাঁর প্রশংসার সাথে এবং তাঁর প্রেরিত রাসুল সা. এর উপর সালাত আদায়ের মাধ্যমে শুরু করছি। আপনার প্রশ্নের জন্য ধন্যবাদ। রামাদান মাস কাছে এসে পড়েছে, স্বাভাবিকভাবেই এখন সারা পৃথিবীর মুসলিমরা চাঁদ দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। যে কোন সময় মুসলিমদের উচিত কর্তব্য হলো একতা এবং ভাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকা। রামাদানের মতো এ ধরণের বিশেষ উপলক্ষগুলো এই মূল্যবান সম্পর্ককে শক্তিশালী করার উপলক্ষ হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রথমেই বলে রাখা দরকার, আমরা মনে করি, শুধুমাত্র রামাদানের শুরু ও শেষ, এবং ঈদ উদযাপনের জন্যই নয়, বরং জীবনের সকল ক্ষেত্রেই সহমর্মিতামূলক ঐক্যচিন্তা বাস্তবায়নের জন্য মুসলিমদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা উচিত। একটি দেশের কিংবা এলাকার মুসলিমেরা তাদের ধর্মীয় উৎসব, ইবাদাত এবং আনুষ্ঠানিকতা পালনের দিন ও সময় নির্ধারণ করতে গিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়বে, এ বিষয়টি ইসলামের মূল চিন্তার সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামের মূল প্রাণশক্তি সবসময় বিভক্তি এবং অনৈক্য দূর করার মাধ্যমে শক্তিশালী হয়। এবং এ কারণেই এক মসজিদে একইসময়ে দুইটি নামাযের জামায়াত করা মুসলিমদের জন্য অনুমোদিত না।

অথচ প্রতিবছর দেখা যাচ্ছে কোথাও না কোথাও রামাদানের নতুন চাঁদ দেখা নিয়ে মুসলিমদের মাঝে মতপার্থক্য ঘটছে। এটি মূলত ঘটছে ভিন্নভাবে দেখার কারণে এবং এই সংক্রান্ত ভিন্নমতের কারণে। এখানে আমরা যে বিষয়টিতে আবারও জোর দিতে চাই, যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে যা মাথায় রাখা দরকার তা হলো, আমাদের মাঝে একতা খুবই প্রয়োজনীয়। এবং এই একতা অর্জন করার জন্য সবচেয়ে ভালো উপায় হলো এ ধরণের সিদ্ধান্তগুলো সম্মিলিত ভাবে গ্রহণ করা। কোন ব্যাক্তি মুসলিমের একক মতামতের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নয়, বরং মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধিগণ, যেখানে প্রতিটি অঞ্চল থেকে প্রতিনিধিত্ব থাকবে, সম্মিলিতভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার মাধ্যমে এই আকাংখিত ঐক্য অর্জন করা সম্ভব।

আপনার প্রশ্নের উত্তরে ড. সানো কুতুব মোস্তফা নিম্নোল্লিখিত মতামত জানিয়েছেনঃ

পৃথিবীর বিভিন্ন মুসলিম দেশ এবং মুসলিম কমিউনিটিতে আমরা ভিন্ন ভিন্ন দিনে রোযা রাখা আরম্ভ করি। যদিও খুব দু:খজনক, কিন্তু এটি একটি বাস্তবতা। এর কারণ হলো, প্রতিটি দেশ অথবা কমিউনিটি তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে রামাদান শুরু এবং শেষের দিন নির্ধারণ করে থাকে।

যাইহোক, আমার মতামত হলো, যদি মুসলিমেরা ভিন্ন ভিন্ন দেশে বসবাস করে তবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই যে তাদেরকে একই দিনে রোযা রাখা আরম্ভ করতে হবে। অন্যভাবে বললে, যদি ভিন্ন দেশ অথবা ভিন্ন কমিউনিটির মুসলিমেরা ভিন্ন দিনে রোযা পালন করা আরম্ভ করে তবে তাকে অনৈক্য কিংবা বিভক্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এ ধরণের ঘটনা হিজরী প্রথম শতাব্দীতেই ঘটেছে, যে প্রসঙ্গে দলীল হিসেবে কুরাইব বর্ণিত একটি বিখ্যাত হাদিস আছে।

কুরাইবের বর্ণনায়, “হারিসের কন্যা উম্মে ফাদাল তার ছেলে ফাদালকে সিরিয়াতে মুআবিয়া রা. এর কাছে পাঠান। আমি (ফাদাল) সিরিয়াতে পৌছানোর পর তার দেয়া কাজগুলো সম্পন্ন করি। সিরিয়াতে থাকা অবস্থাতেই সেখানে রামাদান মাস আরম্ভ হয়। শুক্রবারে আমরা রামাদানের নতুন চাঁদ দেখি। মাসের শেষ দিকে যখন আমি মদীনাতে ফিরে আসলাম, তখন আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. আমার কাছে বিষয়ে (রামাদানের নতুন চাঁদ) জানতে চান। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কখন চাঁদ দেখেছিলেন? আমি বললাম, আমরা শুক্রবার রাতে চাঁদ দেখেছিলাম। তখন তিনি প্রশ্ন করেন, আপনি কি তা নিজের চোখে দেখেছিলেন? আমি উত্তর দিলাম, হ্যাঁ। আমি সহ আরো অনেক মানুষই দেখেছে। তারা সবাই রোযা রেখেছে। এবং মুআবিয়াও রোযা রেখেছেন। 

তখন তিনি (আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা.) বললেন, কিন্তু আমরা চাঁদ দেখতে পেয়েছি শনিবার রাতে। সুতরাং আমরা ত্রিশদিন পুরো হওয়া পর্যন্ত অথবা শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখা পর্যন্ত রোযা রাখতে পারি। আমি প্রশ্ন করলাম, মুআবিয়ার চাঁদ দেখা কি আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়? তিনি উত্তর দিলেন, না। কারণ এভাবেই পালন করার জন্য রাসুলুল্লাহ সা. আমাদেরকে আদেশ করেছেন”। (সহীহ মুসলিম)

তবে, একই দেশে অথবা একই কমিউনিটিতে বসবাস করা মুসলিমদের জন্য ভিন্ন ভিন্ন দিনে তাদের রোযা রাখা শুরু করা অথবা শেষ করা অনুমোদিত নয়, বরং তা নিষিদ্ধ। উদাহরণস্বরুপ, ব্রিটেনের সব মুসলিমদের জন্য একই দিনে রোযা রাখা জরুরী। তাদেরকে অবশ্যই ব্রিটেনের মুসলিম নেতৃত্বের অনুসরণ করতে হবে, অন্য কোন দেশের মুসলিম নেতৃত্বকে নয়। নাইজেরিয়া, সউদি আরব, পাকিস্তান কিংবা ভারত অথবা অন্য কোন দেশের মুসলিমদের সাথে এক্ষেত্রে তাদের সম্পর্ক নেই। বরং তাদের নিজেদের কমিউনিটির ইসলামিক নেতৃত্বের আদেশ এবং পদ্ধতির অনুসরণ করা তাদের জন্য আবশ্যিক কর্তব্য। একইভাবে সউদি আরবের মুসলিমদের কর্তব্য হলো তাদের নিজ দেশের ইসলামিক নেতৃত্বের আদেশ অনুসরণ করা।

মোটকথা, নিজ দেশ অথবা কমিউনিটির নেতৃত্বের নির্দেশকে এড়িয়ে যাওয়া ইসলামে গ্রহণযোগ্য নয়। নেতৃত্বের মাঝে কোনধরণের ঘাটতি থাকলেও তার আনুগত্য করা একটি অবশ্য কর্তব্য। এবং আল্লাহ তায়ালাই এ বিষয় সম্পর্কে সর্বোত্তম জ্ঞানের অধিকারী।

দ্বিতীয় প্রশ্নটি করেছেন আবদুল্লাহ। অনইসলাম ডটনেটে এর উত্তর দিয়েছেন শায়খ আহমাদ কুট্টি। শায়খ কুট্টি ভারতের কেরালায় জন্মগ্রহণকারী নর্থ আমেরিকান একজন ইসলামিক  স্কলার। তিনি ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মদীনার গ্রাজুয়েটইসলামিক ইনস্টিটিউট অভ টরেন্টোর রেসিডেন্ট স্কলার সিনিয়র লেকচারারএবং ইউনিভার্সিটি অভ টরেন্টোর একজন ইনস্ট্রাকটর। মনে রাখা দরকারপাশ্চাত্যে মুসলিম সংখ্যালঘিষ্ট কমিউনিটির জীবনধারা সম্পর্কে সরাসরি অভিজ্ঞতাপ্রসূত জ্ঞান এই আলেমে দ্বীনের জ্ঞানকে সমৃদ্ধ করেছে। 

প্রশ্নঃ আসসালামু আলাইকুম। চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে পুরো পৃথিবীতে একই চাঁদ দেখাকে বিবেচনা করতে হবে কি? না কি আমরা যেখানে বসবাস করি সেই স্থানের চাঁদ দেখাকে বিবেচনা করা হবে?

ওয়া আলাইকুমুসসালাম। পরম করুণাময় আল্লাহ তায়ালার নামে, তাঁর প্রশংসার সাথে এবং তাঁর প্রেরিত রাসুল সা. এর উপর সালাত আদায়ের মাধ্যমে শুরু করছি। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটির জন্য ধন্যবাদ। আন্তরিকভাবে আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আমাদেরকে এই পবিত্র মাসটি পাওয়ার এবং যথাযথভাবে সিয়াম পালন করার সামর্থ্য দেন।

প্রতি বছর বিভিন্ন জায়গাতে রামাদানের নতুন চাঁদ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা যায়। এটা ঘটে দেখার দেখার ভিন্নতার কারণে এবং মতামতের ভিন্নতার কারণে। এই প্রসঙ্গে আমরা জোর দিয়ে যে কথাটি বলতে চাই তা হলো, আমাদের মাঝে আরো অনেক বেশি একতা প্রয়োজন। এবং এই একতা অর্জন হতে পারে সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। প্রতিটি অঞ্চলের মুসলিম উম্মাহর প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে এইসব প্রসঙ্গে যৌথ সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার, কোন ব্যাক্তি বিশেষের নিজস্ব এবং একার চিন্তার মাধ্যমে নয়।

আপনার প্রশ্নের জন্য শায়খ আহমাদ কুট্টি নিচের উত্তরটি দিয়েছেনঃ

প্রতিটি পাড়া অথবা মহল্লার মতো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র এলাকায় চাঁদ দেখা যেতেই হবে, এমন কোন কথা নেই। বরং কোন একটি এলাকায় অথবা অঞ্চলে যদি চাঁদ দেখা যায় এবং অন্যরা তাদের কাছ থেকে যথাসময়ে ইবাদত পালন করার জন্য ঐ চাঁদ দেখার খবর পায়, তাহলে তাহলে তারা রোযা রাখা আরম্ভ করতে পারে। রাসুল সা. বলেছেন, যখন চাঁদ দেখা যায় তখন তোমরা রোযা রাখো। এবং যখন চাঁদ দেখা যায় তখন তোমরা রোযা ভঙ্গ (ঈদ-উল-ফিতর) করো। যদি আকাশ মেঘলা থাকে, অথবা তোমার চাঁদ দেখতে না পারো, তাহলে তোমরা পরেরদিনও রোযা রাখো এবং শা’বান মাসের ত্রিশ দিন পুরো করো।

ইসলামিক স্কলাররা এই হাদিসটিকে দুই ভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, যার মাঝে প্রথমটি সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত। এই মত অনুযায়ী, এক এলাকায় বা অঞ্চলে চাঁদ দেখা গেলে তা অন্যান্য অঞ্চলেও প্রযোজ্য হবে। তবে শর্ত হলো এই চাঁদ দেখা যাওয়ার খবর এমন সময়ের ভেতর পৌছাতে হবে যেন ঐ এলাকার মানুষেরা রোযা রাখার সময় পায়।

দ্বিতীয় এবং কম সংখ্যক স্কলারের মতামত হলো, কোন এলাকায় রোযা রাখার জন্য ঐ এলাকাতেই চাঁদ দেখা যেতে হবে।

দ্বিতীয় মতামতটি অতীতকালের সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে বোধগম্য, যখন যোগাযোগ মাধ্যমগুলো বর্তমান সময়ের মতো উন্নত ছিলো না। ঐ সময়ে কোন এলাকায় চাঁদ দেখা গেলে তা অন্য এলাকাতে ঐ রাতের ভেতরেই কিংবা যথাসময়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে পৌছানো প্রায় অসম্ভব ছিলো। বরং তখন এ ধরণের কোন খবর পৃথিবীর আরেক জায়গাতে পৌছাতে কয়েক সপ্তাহ, এমনকি মাসও হয়তো লেগে যেতো।

কিন্তু বর্তমানে পুরো পৃথিবী একটি গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হয়েছে। যোগাযোগ মাধ্যমের উন্নতির ফলে এখন তাৎক্ষণিকভাবে নির্ভরযোগ্য খবর পৌছানো সম্ভব। সুতরাং প্রতিটি এলাকায় চাঁদ দেখা যেতেই হবে, এমন চিন্তাকে আঁকড়ে ধরে থাকার প্রয়োজনীয়তা আর নেই। বরং এমন মতামত পোষণ করলে তা বিভিন্ন ইবাদত ও আনুষ্ঠানিকতার সমন্বয়ে গঠিত শরীয়তের উচ্চতর লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যের সাথে সাংঘর্ষিকও হতে পারে। ইসলামী শরীয়তের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য হলো, এর অনুসারীদের মাঝে একতা এবং ভাতৃত্বের বন্ধন সৃষ্টি করা।

সুতরাং, এ প্রসঙ্গে প্রথমোক্ত মতামতটিই বর্তমান পৃথিবীতে অধিকতর বাস্তবসম্মত এবং সাযুজ্যপূর্ণ। এই মতামতটির ব্যাখ্যায় বাদশাহ আলমগীরের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় উপমহাদেশের হানাফী স্কলারদের কতৃক সম্পাদিত এবং সংকলিত, হানাফি মাজহাবের বিখ্যাত ফতোয়া সংকলন গ্রন্থ ‘ফতোয়া আলমগীরিতে’ বলা হয়েছে, “হানাফি মতামত অনুযায়ী বেশি গ্রহণযোগ্য মতামত হলো, যদি পূর্বদিকে চাঁদ দেখা যায় তবে তা পশ্চিমেও প্রযোজ্য হবে। তবে শর্ত হলো চাঁদ দেখার খবরটি ঐ এলাকায় যথাসময়ে পৌছতে হবে, যেন এর ভিত্তিতে তারা ইবাদত কায়েম করার সুযোগ পায়”।

আমার উপসংহার হলো, উপরের দুটি মতামতের যে কোনটি বেছে নিতে গিয়ে ঐ সিদ্ধান্ত শেষপর্যন্ত অবশ্যই প্রতিটি অঞ্চল বা এলাকা থেকে আসা থেকে উম্মাহর প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সম্মিলিতভাবে নিতে হবে। কোন ব্যাক্তির একার মতামতে এ সিদ্ধান্তটি নেয়া যাবে না। এ ধরণের বিষয়ে একক ব্যাক্তির বিচারমূলক সিদ্ধান্ত কেবলমাত্র বিশৃংখলা এবং সন্দেহেরই সৃষ্টি করবে।

আমার পরামর্শ হলো আপনার এলাকার নিজস্ব মুসলিম কমিউনিটির সিদ্ধান্তকে অনুসরণ করুন। একই সাথে তাদেরকে যদ্দূর সম্ভব তথ্যপ্রদান এবং অনুরোধের মাধ্যমে বৃহত্তর ঐক্যের দিকে যেতে সাহায্য করুন। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদেরকে তাঁর পবিত্র শরীয়তের অন্তর্নিহিত সৌন্দর্য্য এবং প্রজ্ঞা অনুধাবনে সাহায্য করেন, এবং তা যথাযথভাবে অনুসরণ করার সামর্থ্য প্রদান করেন। আমাদের নিজেদের জীবনে এই শরীয়তের প্রতিফলন ঘটাটাই সবচেয়ে বেশি প্রয়োজনীয়। আমীন।

তৃতীয় প্রশ্নটি করেছেন আবদুল্লাহ। অনইসলাম ডটনেটে এর উত্তর দিয়েছেন ইসলামিক ইনস্টিটিউট অভ টরেন্টোর সিনিয়র লেকচারার এবং রেসিডেন্ট স্কলার শায়খ আহমাদ কুট্টি। 

প্রশ্নঃ প্রিয় স্কলার, আসসালামু আলাইকুম। কিভাবে ইসলামের ইতিহাসের শুরুর দিকে চাঁদ দেখার বিষয়টি সংঘটিত হতো, আমি তা জানতে আগ্রহী। এবং পরবর্তীতে কিভাবে তা মক্কা শহরে অথবা নিজ নিজ এলাকায় চাঁদ দেখার মধ্যে পর্যবসিত হলো?

ওয়া আলাইকুমুসসালাম। আল্লাহ তায়ালার নামে, তাঁর প্রশংসা এবং রাসুল সা. এর উপর সালাত আদায়ের মাধ্যমে আরম্ভ করছি। আমাদের উপর আস্থা রাখার জন্য আপনাকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানাই। আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর উদ্দেশ্যের খেদমত করার এবং আমাদের সমস্ত কাজকর্মকে কেবলমাত্র তাঁরই সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরিচালনা করার সামর্থ্য দেন।

আপনার প্রশ্নের জন্য শায়খ আহমাদ কুট্টি নিচের উত্তরটি দিয়েছেনঃ

রাসুল সা. এর সময়কালে তিনি তাঁর সমসাময়িক মুসলিম সাহাবীদের কারো চাঁদ দেখার খবর তাঁর কাছে পৌছালে, তা গ্রহণ করতেন। এ বিষয় সংক্রান্ত মুলনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেছেনঃ “যখন চাঁদ দেখা যায় তখন রোযা রাখো, যখন চাঁদ দেখা যায় তখন রোযা ভাঙ্গো (অর্থ্যাৎ, ঈদ-উল-ফিতর পালন করা)যদি আকাশে মেঘ থাকে তাহলে তোমরা পরের দিনও রোযা রাখো এবং শা’বান মাসের ত্রিশ দিন পুরো করো”।

পরবর্তীতে যখন ইসলামিক রাষ্ট্র আয়তনে ছড়িয়ে পড়লো এবং বিশাল হয়ে গেলো, তখন নতুন প্রশ্ন আসলো, রাষ্ট্রের কোন এলাকায় চাঁদ দেখা গেলে তা অন্য এলাকার জন্য প্রযোজ্য হবে কি? যদিও বেশিরভাগ স্কলার সেসময় কোন এক জায়গাতে চাঁদ দেখা যাওয়াকেই সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য যথেষ্ট মনে করেছেন, কিন্তু দূরত্ব এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার অপ্রতুলতার কারণে ভিন্ন স্থানে ভিন্ন ভিন্ন চাঁদ দেখাকে গ্রহণ করা ছাড়া তাদের আর কোন উপায় ছিলো না। একইসাথে সেসময় কিছু সংখ্যক স্কলার মনে করেছেন, এ ধরণের বিষয় বিবেচনার বাইরে রেখেই ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্নভাবে চাঁদ দেখা যাওয়া আবশ্যক।

উপরের দুটি মতামতই রাসুল সা. এর হাদিসের গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা। কারণ এভাবেই রাসুল সা. তার জীবদ্দশাতে বিভিন্ন ঘটনা এবং উদাহরণের মাধ্যমে আমাদের ভিন্ন ব্যাখ্যা গ্রহণ করার শিক্ষা দিয়েছেন। সুতরাং ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে যে কোন বৈধ ও গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যাগুলোর মাঝে যে কোনটি আমরা অনুসরণ করার স্বাধীনতা রাখি।

হাদিসের ব্যাখ্যার পাশাপাশি ফিকহী বিবেচনার ক্ষেত্রেও, উপরের দুটি ব্যাখ্যাই মুসলিম উম্মাহ তার ফিকহী ঐতিহ্যসূত্রে পেয়েছে। সুতরাং এর কোনটি বাদ দিয়ে দেয়ার সুযোগ আমাদের নেই। বরং দুই মতামতের মাঝে অধিকতর বাস্তবসম্মত এবং বাস্তব উপযোগিতমূলক চিন্তাটি আমাদের গ্রহণ করা উচিত। সর্বোপরি, আমাদের এই বেছে নেয়ার বিষয়টি সবসময়ই মুসলিম উম্মাহর মাঝে ঐক্য এবং ভাতৃত্বের সম্পর্ক শক্তিশালী করাকে বিবেচনার ভিত্তিতে হওয়া জরুরী। কারণ, যেমনটি রাসুল সা. শিখিয়েছেন, ব্যাক্তিগত মতামতের চাইতে বরং সম্মিলিত স্বার্থ এবং কল্যাণের ভিত্তিতেই আমাদের পরিচালিত হতে হবে।

সর্বশক্তিমান আল্লাহই এ বিষয়ে সবচেয়ে ভালো জানেন।

চতুর্থ প্রশ্নোত্তরটি প্রকাশিত হয়েছে ইসলামকিউএ ডটইনফো ওয়েবসাইটে। প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন সালাফি ঘরানার বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন, সিরিয়ান বংশোদ্ভুত সউদি স্কলার শায়খ সালিহ আল মুনাজ্জিদ। 


প্রশ্নঃ ঈদের দিন নিয়ে আমার একটি প্রশ্ন আছে। আমরা জানি যে, রামাদান মাসের শেষে ঈদ-উল-ফিতর পালন করতে হয়। কেউ উনত্রিশ দিনের পর, আবার কেউ ত্রিশ দিন পুরো করে তারপর ঈদ উদযাপন করে। নিয়ে প্রতিবছরই কোথাও না কোথাও মুসলিমদের মাঝে মতানৈক্য ঘটছে। আমি জানতে চাই, ঈদ-উল-আযহা বা কোরবাণীর ঈদের দিনটি কিভাবে নির্ধারণ করতে হবে? দিন কি মক্কা শহরে হজ্বপালনকারীদের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ঠিক করতে হবে? না কি বিভিন্ন দেশের ভিন্ন ভিন্ন অবস্থান অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্নদিনে ঈদ পালন করা হবে?

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তায়ালার জন্য।

প্রথমত, রামাদানের প্রথম দিন এবং ঈদের দিন নির্ধারণ করতে গিয়ে মুসলিমদের মাঝে যে মতবিরোধ ঘটে থাকে, এর শেকড় মূলত ফিকহ-বিশারদদের একটি মতপার্থক্যের মাঝে নিহিত। এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে তা অন্য দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে কি না, না কি প্রতিটি দেশের জন্য পৃথকভাবে চাঁদ দেখা যাওয়া দরকারী, এ বিষয়টা নিয়ে তাদের মাঝে মতপার্থক্যের বিষয়টি সুবিদিত। এবং এ থেকেই পৃথকভাবে দিন উদযাপনের ঘটনার উৎপত্তি হয়। এ বিষয়টি ঠিক একইভাবে ঈদ-উল-আযহার ক্ষেত্রেও ঘটে থাকে।

এক্ষেত্রে খুব জরুরী যে বিষয়টি মনে রাখা দরকার তা হলো, পুরো বিষয়টি একটি ইজতিহাদ-সংশ্লিষ্ট বিষয়। এখানে মতপার্থক্যকারী স্কলাররা তাদের নিজেদের মতামতের পক্ষে দলীল উপস্থাপন করেছেন। অধিকন্তু এমনও হতে পারে যে, উভয় পক্ষের স্কলাররা একই টেক্সট (কোরআন অথবা হাদিস) দলীল হিসেবে ব্যাবহার করেছেন, কিন্তু ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে ভিন্নতা ঘটে গেছে।

যে কোন এক দেশে চাঁদ দেখা গেলে তা সব দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে, এ মতামতটি অধিকাংশ আলেমে দ্বীন পোষণ করেছেন। সউদী আরবের প্রধান মুফতি মরহুম শায়খ বিন বায এ মতামতটিকে সমর্থন করেছিলেন। একেক দেশের জন্য পৃথক চাঁদ দেখার সুযোগ থাকতে পারে, শাফেয়ী মাযহাবে অনুসারে এ মতামতটি বেশি গ্রহণযোগ্য। ইমাম ইবনে তাইমিয়া এবং আধুনিক আলেমদের মাঝে ইবনে উসাইমিন এ মতকে সমর্থন করেছেন।

দ্বিতীয়ত, ঈদ-উল-ফিতর এবং ঈদ-উল-আযহার দিন (এবং রামাদান মাসের প্রথম দিন) নির্ধারণ করতে গিয়ে মুসলিমদের মাঝে যে মতপার্থক্য ঘটে থাকে, তা মূলত আলেমদের বুদ্ধিবৃত্তিক মতামতের পার্থক্যের কারণে হয়। এ বিয়ষ সম্পর্কে বলতে গিয়ে মরহুম শায়খ বিন বায বলেছেনঃ

শরীয়ত সম্পর্কে আমার যে জ্ঞান, তার ভিত্তিতে আমার মতে চাঁদ দেখা যাওয়ার পার্থক্য খুব বড় কোন বিষয় না। এ ধরণের পার্থক্য ঘটাটাই স্বাভাবিক, এবং সবসময় ঘটে থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের উচিত রামাদানের শুরু, শেষ এবং কোরবাণীর ঈদের দিন নির্ণয়ের জন্য যখন কোন স্থানে চাঁদ দেখা যাবে, তা বাকী সব স্থানের জন্যই প্রযোজ্য হিসেবে ধরে নিতে হবে। এ বিষয়টি রামাদান শুরুর এবং শেষের জন্য চাঁদ দেখার ক্ষেত্রে যেভাবে প্রযোজ্য, একইভাবে ঈদ-উল-আযহা অর্থ্যাৎ কোরবাণীর ঈদের জন্যও সমানভাবে প্রযোজ্য।

একই বিষয় সম্পর্কে মতামত দিতে গিয়ে মরহুম শায়খ ইবনে উসাইমিনের মত হলো, যেখানে চাঁদ দেখা যাবে তা ঐ স্থানের জন্য প্রযোজ্য হবে এবং অন্য এলাকার জন্য ঐ জায়গায় আলাদাভাবে চাঁদ দেখা যাওয়া প্রয়োজন। আলাদাভাবে চাঁদ দেখার এ বিষয়টি যেভাবে রামাদান শুরু এবং শেষ নির্ধারণের ক্ষেত্রে যেমনিভাবে প্রযোজ্য, একইভাবে কোরবাণীর ঈদের জন্যও তা প্রযোজ্য। এ মতের ভিত্তিতে, চাঁদ দেখা যাওয়ার ভিন্নতার উপর নির্ভর করে এক দেশে শুক্রবার ঈদ-উল-আযহা হওয়া এবং অন্য আরেক দেশে শনিবার ঈদ-উল-আযহা হওয়াতে কোন সমস্যা নেই।

এ মতামতগুলো রামাদানের রোযা রাখা শুরু করার দিন নির্ধারণ প্রসঙ্গে, রোযা রাখার জন্য আরাফাতের দিন নির্ণয় প্রসঙ্গে, আশুরার দিনে রোযা রাখা প্রসঙ্গেও সমানভাবে প্রযোজ্য। কারণ এই সব দিনগুলো চাঁদ দেখা যাওয়ার ভিত্তি করে এবং চন্দ্রমাস কবে শুরু হয়েছে তার উপর ভিত্তি করে ঠিক করা হয়। আল্লাহ তায়ালাই সবচেয়ে ভালো জানেন।

উপসংহারঃ ইসলামিক স্কলারদের মতামত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চাঁদ দেখা যাওয়ার খবরটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যমে দূরের অন্য আরেকটি জায়গায় পৌছানো একটি মৌলিক সমস্যা ছিলো। বর্তমান সময়ে যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতির কারণে এ সমস্যা আর নেই। তবে সকল যুগে সব সময়েই এক্ষেত্রে সবচেয়ে জরুরী বিষয় হলো, নির্ভরযোগ্য ব্যাক্তিদের কতৃক চাঁদ দেখা, এবং সেই চাঁদ দেখার খবর নির্ভরযোগ্য মাধ্যমের ভিত্তিতে অন্য জায়গায় এমন সময়ের ভেতরে পৌছানো যে, ঐ জায়গার মানুষেরা রোযা রাখা অথবা ঈদ পালন করার জন্য উপযুক্ত সময় হাতে পায়। এই সংকলনের উদ্দেশ্য হলো এ বিষয় সংক্রান্ত মতামতগুলোকে একত্র করা, কোন বিশেষ মতামতকে প্রাধান্য দেয়ার কোন চিন্তা এখানে রাখা হয়নি।

মনে রাখার জন্য আরেকটি বিষয় হলো, এ ধরণের সিদ্ধান্তগুলো কোন আলেমের একার কিংবা অল্পসংখ্যকের মতামতের ভিত্তিতে না হয়ে বরং সব এলাকার ও মতামতের প্রতিনিধি আলেমদের সমন্বয়ে হওয়া দরকারী। এরপরও যদি আলেমদের মাঝে এ মাসআলা নিয়ে মতপার্থক্য ঘটে, তাহলে নিজের স্থানীয় এলাকা অথবা কমিউনিটির অনুসরণ করা উচিত। এই অনুসরণ করার দুইটি কারণ আছে।

প্রথমত, মুসলিমদের মাঝে ঐক্য এবং ভাতৃত্ব বজায় রাখা শরীয়তের অন্যতম একটি মৌলিক উদ্দেশ্য। দ্বিতীয়ত, এ বিষয়টি একটি ইজতিহাদী বিষয়। কেউ যদি ইজতিহাদ করার যোগ্যতা রাখে এবং শরীয়তের মূলনীতি কিংবা উসূলের অনুসরণের মাধ্যমে কেবলমাত্র নিখাদ আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের নিয়ত চিন্তায় রেখে কোন সমস্যা সম্পর্কে ইজতিহাদ করে, তাহলে তাতে ভুল হলেও তার জন্য আল্লাহ তায়ালা একটি সওয়াব দিয়ে থাকেন। আর কেউ ইজতিহাদ করে সঠিক সমাধানে পৌছতে পারলে তাতে আল্লাহ তায়ালা দু’টি সওয়াব দেন। রাসুল সা. তাঁর সহীহ হাদিসের মাধ্যমে এ বিষয়টি আমাদের জানিয়েছেন।

সুতরাং ইজতিহাদী বিষয়গুলোতে নিজেদের কোন ধরণের স্বার্থচিন্তা না রেখে বরং শরীয়তের উদ্দেশ্য এবং মুসলিমদের কল্যাণ চিন্তার ভিত্তিতে কোরআন ও হাদিসের উপযুক্ত ব্যাখ্যাকে অনুসরণ করার চিন্তা করা খুব প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। আল্লাহ তায়ালাই সঠিক ভাবে ও সর্বোত্তমভাবে জানেন কোন বিষয়টি যথার্থ এবং অধিকতর গ্রহণযোগ্য।

সূত্রঃ 1. http://www.onislam.net/english/ask-the-scholar/acts-of-worship/fasting/start-and-end-of-ramadan/171443-avoiding-disagreement-over-the-beginning-of-ramadan.html?End_of_Ramadan

  1. http://www.onislam.net/english/ask-the-scholar/acts-of-worship/fasting/start-and-end-of-ramadan/170572-new-moon-of-ramadan-and-unity-of-the-muslim-ummah.html?End_of_Ramadan=
  2. http://www.onislam.net/english/ask-the-scholar/acts-of-worship/fasting/start-and-end-of-ramadan/170573-sighting-the-new-moon-in-the-beginning-of-islamic-history.html?End_of_Ramadan=
  3. http://islamqa.info/en/97750

[বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ সুত্রে উল্লেখিত http://www.onislam.net ওয়েবসাইট টি এখনপাওয়া যাবে http://aboutislam.net/ সাইটে ]

 

অনুবাদক: ফারুক আমিন 

সংকলন সম্পাদনা: শিবলী সোহায়েল

লেকচারার, চার্লস স্টুয়ার্ড ইউনিভার্সিটি, সিডনি

 

Authors
Top