চিরকুট

চিরকুট

কতকিছু যে ভুলে বসে আছি। অতীতের এক একটা সুতো যখন সামনে এসে হাজির হয় তখন নিজেকে মনে হয় স্মৃতি হারিয়ে ফেলা কোন অসহায় মানুষ।

‘স্যার ভালো আছেন?’ বলে যখন কোন তন্বী তরুণী হঠাৎ সামনে এসে দাঁড়ায় তখন তাকে চিনতে না পারার বেদনাটা স্মৃতিভ্রষ্ট হবার চেয়ে কোন অংশে কম নয়।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষে ক্যাম্পাসে পা রাখা হয় কালেভদ্রে। আর আমার মত কুয়োর ব্যাঙের জন্য কোথাও যাওয়া মানেই হাজারো হ্যাঙ্গাম। তবু পাবলিক লাইব্রেরি প্রাঙ্গণে বইমেলার খবরে শরীরটাকে টেনে নিয়ে যেতেই হয়।

প্রচণ্ড রোদ আর নিজের শরীরের ঘিনঘিনে ঘামের চেয়েও বেশি পোড়াচ্ছিল রিকশা না পাওয়ার বেদনা। শাহবাগ থেকে বইয়ের বোঝা নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে একেবারে রোকেয়া হলের গেটে। তবু কোন রিকশাওয়ালার মন গলাতে পারছিনা। গন্তব্য নীলক্ষেত শুনেই সকলেই নাক সিটকান। রোকেয়া হলের গেটে দাঁড়ানো প্রায় ১০/১২ টি রিকশার সারথীরাও সবাই মাথা ডানে বামে নাড়িয়ে দেয়।

কাঠ হওয়া গলা ভেজাতে ভ্যান গাড়ির চলমান লেবুর শরবতের আশায় ইতিউতি দেখছি এমন সময় আচমকাই এক তরুণীর কণ্ঠ- ‘স্যার ভালো আছেন?’

আমার ফ্যালফ্যালে চাহনিতে তার চোখে রাজ্যের বিস্ময়।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে টিউশনির সুবাদে অনেকের কাছেই আমি স্যার। কিন্তু এই রমণীটি আমার ছাত্রীদের কেউ কি? কারণ, আমি যেই পেশার মানুষ সেখানে ধর্ম-বর্ণ-বয়স নির্বিবাদে সবাই ভাই-বোন। কর্মক্ষেত্রের সুবাদে তাই স্যার হবার সুযোগ নেই।

চোখের কালো রোদচশমা দৃষ্টিটাকে আড়াল রাখলেও মেয়েটি হয়তো বুঝতে পেরেছিল স্মৃতির রাডারে তাকে ফিরিয়ে আনতে আমার চোখদুটোর অবাধ বিচরণের চেষ্টা। তাই তার চোখের বিষ্ময় এবার ঠোঁট দিয়ে বেরুলো।

– স্যার, আমি বিথী… সাভার…

সাভার শব্দটি মস্তিষ্কে আলো এনে দিল। একবছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে হা-পিত্যেশের আমলে আমায় সাভারবাস করতে হয়েছিল আটমাস। তখনই আজকের এ তরুণীর গৃহশিক্ষক হিসেবে মাসকাবারি ৪টি হাজার টাকা পকেটস্থ করতাম। কিন্তু দশমশ্রেণি পড়ুয়া সে কিশোরির যে ছবি আমার মাথায় ছিল তার সাথে আজকের এ তরুণীর ঢের অমিল। বড় করে কাজল আঁকা দুটো চোখ আর কপালের টিপ আজ উধাও। একদম হালকা সাজে তাকে চেনাই দায়।

-স্যার, আমি ইংলিশ ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়েছি।

– ও, তাই নাকি! কোন ইয়ার?

বিষ্ময়প্রকাশের অভিনয়ে আমি কোনকালেই ভালো ছিলামনা। তবে বিথী তা ধরতে পারলো বলে মনে হলোনা।

-ফিফথ্ সেমিস্টার। আপনি কি করছেন, স্যার?

কি করছি এ প্রশ্নের উত্তর দিতে আমি কখনই ক্লান্তবোধ করিনা। বরং কিছুটা বাড়িয়ে বলতেই ইচ্ছে করে। তবু মাথার ওপর জ্বলন্ত সূর্য নিয়ে মেয়েদের হলের সামনে দাঁড়িয়ে কারও সাথে গল্প করাটা রীতিমত অস্বস্তিকর। তাই বেশ সংক্ষেপে সে পর্ব সারলাম।

-দুপুরে খেয়েছেন স্যার? চলুননা আমার সাথে খাবেন।

আমি প্রমাদ গুনলাম। প্রবলেবেগে মাথা দুপাশে নাড়িয়ে গলার আওয়াজেও তার প্রকাশ করলাম।

-প্লিজ স্যার, প্লিজ।

আমার ‘না’ নাকি কখনো ‘হ্যাঁ’ হয়না। তবু প্লিজের তোড়ে আজ সেই খ্যাতির বিলোপ ঘটলো বলে।

-চানখারপুলে যাই স্যার?

আগের উত্তর না পেয়েই এ মেয়ে পরের প্রশ্নে চলে গেছে। এবার নৈব্যর্ত্তিক উত্তরে সমূহ বিপদের আশংকা। চানখারপুল বা নীলক্ষেত যেতে হলে রিকশা ছাড়া গতি নেই। এ দুপুরে কোন রমণীর সাথে রিকশাভ্রমণ যতটা রমণীয় হোকনা কেন এ মুহূর্তে তা মোটেই কাম্য নয়।

-আজ বরং থাকনা। আরেকদিন..

-ওমা, আরেকদিন আপনাকে পাবো কোথায়? প্রায় ৯ বছর পর আপনার দেখা পেলাম। আজ ছাড়ছিনা স্যার।

তার গলার জোড় দেখে আমার পায়ের জোড় কমে যাচ্ছে। জোড়াজুড়ির বিপরীতে জোড়াজুড়ি দাঁড় করিয়ে লাভ নেই। আমাকে বরং খাঁটাতে হবে মাথার জোড়। শাহবাগ বা চানখারপুল যেতে রিকশাওয়ালারা আপত্তি নাও করতে পারে। এতক্ষণ যেহেতু নীলক্ষেতের রিকশা পাইনি তাই নীলক্ষেতই হোক।

বিশ্বজয়ের হাসি দিয়ে বিথী সামনের রিকশাওয়ালাকে ‘চলেন নীলক্ষেত’ বলতেই বিশ্বাসঘাতক চালক শরীরটা সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে প্যাডেলে পা রাখলো। আমার এমন ক্যালকুলেটিভি রিস্ক এভাবে মাঠে মারা গেল ভেবেই শরীর জ্বলে যাচ্ছে।

-উঠে পড়ুন স্যার।

উঠানামাই যে জীবন এই তরুণীর হাসিই তা বলে দিচ্ছে।

-হুডটা তুলে দেব স্যার?

-না না আ হ।

আওয়াজটা কেমন যেন গলা চিড়ে বেরুলো। বিথীর যেন ঈদের দিন। হাসির দমকে সে কেঁপে কেঁপে উঠছে।

-ওকে, ওকে। রোদ ছিল তাই বললাম। দিন কিছু বই আমায় দিন। ওরে বাবা কতগুলো বই কিনেছেন।

এই মেয়ে অনুমতির তোয়াক্কাই করেনা। আমার কাছ থেকে বইয়ের প্যাকেটগুলো প্রায় ছিনিয়ে নিল। মানুষ যে কতটা বদলে যায় একে দেখেই বুঝতে পারছি। যখন পড়াতাম তখন তার মুখ দিয়ে কথাই বেরুতোনা। প্রতিদিন পড়ানো শেষ হলেই মাথাটা একটু তুলে বলতো- ‘স্যার আম্মু বসতে বলেছে’। তারপর কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে হাতে খাবারের ট্রে নিয়ে ঘরে এসে ঢুকতো। তাও ক্ষণিকের জন্য। খাবারগুলো সামনে রেখেই আবার উধাও।

প্রতিদিনই পানির শেষ ঢোঁক গেলার পরেই পর্দার আড়াল থেকে আবার হাজির। হয়তো দাঁড়িয়েই থাকতো দরজার ওপাশে। সেসময় খাবার ছাড়া অন্যকিছুতে মনোযোগ দিতামনা বলেই হয়তো ভেবে দেখিনি সে খাবার শেষে চা এনে দেবার অপেক্ষাতেই থাকতো না …

-আপনি কোথায় থাকেন স্যার?

– ধানমন্ডি।

-ভাবীও থাকেন সাথে?

জ্যামে রিকশা দাঁড়িয়ে পড়েছে আর কথার মোড় অহেতুক প্যাঁচালের দিকে এগুচ্ছে। ঢাকার রিকশাগুলো প্রেমিক যুগলদের জন্য আদর্শ হলেও এ মুহূর্তে কাঠ হয়ে বসে থাকাটা অস্বস্তির মাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। একটু নড়েচড়ে যে হাপ ছেড়ে বাঁচবো সে উপায়ও নেই।

‘এখনও বিেয় করা হয়ে ওঠেনি’ বলে নিজের কথায় নিজেই চমকে উঠলাম। গলাটা কেমন যেন ফ্যাসফ্যাসে শোনাচ্ছে। গলা খাকারি দিয়ে যে গলাটা পরিস্কার করে নেব তাও ইচ্ছে করছেনা। একটু নড়লেই যেন অস্পৃশ্য কোন বস্তু গায়ে লেগে যাবে।

-কবে করবেন?

এ মেয়ে আমাকে প্রশ্নের জোয়ারে ফেলে দিয়েছে। উত্তর যাই দেইনা কেন পরবর্তী প্রশ্ন এড়ানোর উপায় নেই। তবুও যথাসম্ভব তেতো মুখটাতে হাসি ফুটিয়ে দার্শনিকের মত বললাম, দেখা যাক।

-কাউকে পছন্দ করে রেখেছেন স্যার?

বিথীর মুখের দিকে একঝলক তাকিয়ে দেখি তার নাকের ওপর জমে থাকা বিন্দু বিন্দু ঘামে রোদ পড়ে চিকচিক করছে। আর তার পুরো মুখে কৌতুহলের ঝিলিক। এবার বিপদ অনিবার্য। উত্তর ‘হ্যাঁ’ দিলে হাজারো প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। আর ‘না’ হলে না জানি কী অপেক্ষা করছে।

-উফফ, কী জ্যাম দেখেছেন স্যার? কোন কিছুই নড়ছেনা। ধ্যাত…

-(খুশি হয়ে) ঠিক বলেছো। চলো আজ চলে যাই।

-(অবাক হয়ে)কোথায় যাবেন? এই রোদে হেঁটে যাবেন? চলেন স্যার চানখারপুলে যাই। দেখেন সব রিকশাই ঘুরিয়ে নিচ্ছে।

রিকশা তো ঘুরিয়ে নেয়াই যাবে। কিন্তু আমার ভাগ্যের চাকা ঘোরানোর কোন উপায় দেখছিনা। মাথার ওপর কড়া রোদ আর পাশে এক নাছোড়বান্দা তরুণী। রাস্তার একপাশে এফ রহমান হল আর একপাশে সার্জেন্ট জহুরুল হক হল। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেবার কথা বলে এই দুই হলের একটিতে ঢুকে আর বের না হলে কেমন হয়? কিন্তু সেক্ষেত্রে আমার সাধের বইগুলোকে বিসর্জন দিতে হবে। এই মেয়ে নিশ্চিত বইগুলোকে আমার বদলি হিসেবে জিম্মি করে রেখে দেবে।

-ভাইয়া আপনার হাতটা একটু ধরি?

বেয়াড়া প্রশ্নে আমার আত্মার থরোহরিকম্প শুরু হয়ে গেল। এই মেয়ে বলে কী? আর স্যার থেকে হঠাৎ ভাইয়াই বা হলাম কখন? হায় বিধি তোমার সৃষ্টি বিথীর এ কোন খেল!

রিকশা থেকে লাফ দেব কিনা ভাবছি তার আগেই অনুভব করলাম দুটো হাত আমার রুগ্ন বাইসেপ আঁকড়ে ধরেছে। লাফ দেবার আর কোন উপায়ই নেই। কাঠ হয়ে বসে আছি। রিকশার সিটে যেন আমার শিকড় গজিয়ে গেছে। রিকশাওয়ালার বিকট শব্দের হাই ছাড়া শুধু আমার হৃদকম্পন শোনা যাচ্ছে।

আমার এক বন্ধু তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকে তার সহপাঠিকে ভালোবাসে অথচ এই কথাটা সে তাকে কখনও বলতে পারেনি। ভালোবাসার মানুষটির সাথে রিকশায় উঠলে নাকি সে যে পাশে বসতো তার শরীরের সে পাশটা নাকি আগুনের মত জ্বলতো। আর বিথী আমার যে পাশে বসেছে আমার সে পাশটা ঠান্ডায় জমে গেছে। এ আমার ভালোবাসার মানুষ নয় বলেই হয়তো…

-ভাইয়া ঐ বামদিকের রিকশাটায় দেখুন।

চাপা গলায় বিথীর কথা শুনে তার দৃষ্টি অনুসরণ করে তাকালাম রিকশাটির দিকে। আমাদের থেকে সেটা প্রায় ২০ গজ দূরে। আর সে রিকশায় বসা একটি সুদর্শন ছেলে।

-কি হয়েছে?

-ভাইয়া, ঐ ছেলেটা না আমায় ভালোবাসে।

-সে ভালোবাসে তো তুমি আমার হাত ধরে আছো কেন?

-আমি ওকে বলেছি আমি আরেকজনকে ভালোবাসি। তাই আপনার হাত ধরে আছি।

-(বিস্ফোরিত চোখে) মানে?

-না, ও আপনাকে আর আমাকে এভাবে দেখলে সেটা বিশ্বাস করবে।

-তাহলে শুধু হাত ধরে রেখেছো কেন? মাথাটাও ঘাড়ে দিয়ে দাও, বিশ্বাসটা আরও দৃঢ় হবে।

-নাহ, সেটা বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে।

আহা এতক্ষণ আমায় টানাহ্যাঁচড়া করে সবে ওনার সীমাজ্ঞান হলো।

-আপনি রাগ করেছেন ভাইয়া? আমি সর্যি।

কিছুতেই নিজের রাগ সামলোতে পারছিনা। ভদ্রতার মুখোশটা এতক্ষণ নাবোধক উত্তরগুলোকে হ্যা করে দিচ্ছিলো। এবার সেটা খসে পড়লো বলে।

বিথীর দিকে তাকাতে ইচ্ছে করছিলনা। আমার হাত ছেড়ে তার হাত নিজের চেহারায় ঘোরাফেরা করছে। সেটা কি চোখ মুছতে নাকি হাসি চাপতে তা বলা মুশকিল। কান্না বা হাসির এই রোগ ৮ বছর আগেও কি আমি হেলায় এড়িয়ে এসেছি?

-আমি নেমে যাবো। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে।

-সে কি ভাইয়া খাবেন না?

নারী চরিত্র বোঝা সত্যি মুশকিল। এ মেয়ে রীতিমত হাসছে যেন আমি ভয়ংকর মজার কিছু বলেছি।

-বইগুলো দাও।

-প্লিজ ভাইয়া, রাগ করবেননা। আমি শুধু মজা করার জন্য আপনার হাতটা ধরেছিলাম।

বিথীর কথা শুনে ঐ রিকশার দিকে তাকিয়ে দেখি ছেলেটি নির্বিকার চিত্তে রিকশায় বসে সামনের দিকে চেয়ে আছে। নিজের ওপরেও আর রাগ হচ্ছেনা। আমি কতটা বোকা সেটা ভেবে রীতিমত কান্না পাচ্ছে।

বিথীর হাত থেকে বইগুলো কেড়ে নিয়ে হাঁটা শুরু করেছি। রিকশার আশায় না দাঁড়িয়ে তখনই যদি হাঁটতাম তাহলে আর এই দশা হোতনা। বিথী রিকশা ‍ঘুরিয়ে নিয়েছে না আমার পিছু নিয়েছে দেখার জন্য পিছনে ঘুরতেই ফুটপাথের ইটে হোঁচট খেলাম।বইগুলো হাত থেকে পড়ে গেছে।

সবগুছিয়ে ধুলো ঝাড়তে যাবো এমন সময় চোখে পড়লো বইয়ের সাথে এক চিরকুট। এটা কোথ্থেকে এলো? ক্যাশমেমোগুলো আমি সব ফেলে দিয়েছি আগেই। রাস্তা থেকে বই ওঠানোর সময় এটাও কি উঠিয়েছিলাম?

এ নিশ্চয়ই ওই মেয়ের কান্ড। সেই হয়তো চিঠিটি বইয়ের ছাঁকে গুঁজে দিয়েছে। কিন্তু তার হাতে চিঠিই বা এলো কোথা থেকে? আর বিথী জানবেই বা কি করে যে আমাদের আজ দেখা হবে। গরমে আর রহস্যের প্যাঁচে গলা শুকিয়ে যাচ্ছেতাই দশা।

হাঁটতে হাঁটতে নীলক্ষেত গাউসুল আযম মার্কেটের সামনে চলে এসেছি। একটা বেকারিতে বসে ঠান্ডা কোকের অর্ডার দিয়ে চিঠি খুলে বসলাম। না জানি আজ আর কত অবাক হবার পালা?

সাদাকাগজে লেখা ছোট্ট চিঠি- ‘আমরা জীবনে সকলেই কিছু নাটকের অপেক্ষায় থাকি। নাটকীয় ঘটনাগুলো যদি আমাদের স্বপ্নের সাথে মিলে যায় তবে সেটাকেই বলি অলৌকিক ঘটনা। আমিও তেমনি এক অলৌকিক ঘটনার আশায় চিঠিটি লিখছি। এবং প্রতিনিয়ত একই চিঠি বারবার লিখিছি। লেখাগুলো আজ প্রায় ৮ বছর প্রতিদিন সাথে নিয়ে ঘুরছি যদি কোনদিন আপনার সাথে দেখা হয় সেই আশায়। ৮ বছরে অসংখ্যবার কাগজ বদল করেছি কিন্তু আমার ভাবনার কোন পরিবর্তন আজো হয়নি।

শুরুটা কবে নিজেরও জানা নেই। শুধু প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকতাম আপনাকে দেখবার। শেষবার যেদিন এলেন সেদিনও বুঝিনি আর কোনদিন আপনাকে দেখতে পাবো কিনা? এরপর অপেক্ষার পালা শুধুই বেড়ে গেছে।

জানিনা আপনি কোনদিন এ চিঠি পাবেন কিনা? তবে আমি চিরকাল অপেক্ষায় থাকবো অলৌকিক কিছুর। প্রেম-ভালোবাসা কি তা জানিনা। শুধু জানি কৈশোরের সেই দিনগুলো থেকে আমি কেন জানি আপনার অপেক্ষায় আছি।’

ঠান্ডা কোকটা গলায় বড্ড ধরেছে। টনসিলের ব্যাথাটা আবার বাড়বে কিনা কে জানে। স্মৃতিশক্তি ধোঁকা না দিলে বিথী বলেছিল ইংলিশ ডিপার্টমেন্ট ফিফথ্ সেমিস্টার। কলাভবনের বারান্দায় দুটোচক্কর দিয়ে কাউকে খুঁজে বের করা কি খুব কঠিন?

শামস্ সয়ূজ

লেখক ও সাংবাদিক,

আমাদেরসময়ডটকম

Authors
Top