জিয়ার কবর সরানোর তোড়জোড়

president-ziaur-rahman
সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার তোড়জোড় আবার শুরু হয়েছে। তবে কখন, কিভাবে জিয়ার কবর সরিয়ে নেয়া হবে তা এখনো পরিষ্কার নয়।
সম্প্রতি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এক অনির্ধারিত আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ওই জায়গা যদি সচিবালয়ের জন্য নির্ধারিত থাকে এবং সবাই যদি একমত পোষণ করেন, তাহলে মাজার সরানো যেতে পারে। এ সময় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, জিয়ার মাজার প্রয়োজনে ঢাকার বাইরে নেয়া যেতে পারে। তবে সে সময় এ বিষয়ে বৈঠকে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

জানা গেছে, রাজধানীর শেরেবাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেকের এই বৈঠকে আলোচনার সূত্রপাত হয় আগারগাঁওয়ে ডাক অধিদপ্তরের সদর দপ্তর নির্মাণ নিয়ে। সভায় এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প উত্থাপন করেন গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন। মন্ত্রী বলেন, অনেক সরকারি অফিস এরই মধ্যে শেরেবাংলানগরে চলে গেছে। কিন্তু নতুন কোনো সরকারি অফিসের জন্য জমি পাওয়া যাচ্ছে না। জায়গার অভাবে সচিবালয়কেও শেরেবাংলানগরে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, লুই আই কান যে নকশা করেছিলেন, সেই নকশায় জিয়াউর রহমানের মাজারের জন্য আলাদা জায়গা ছিল না। সেখানে সচিবালয় করার কথা ছিল। কিন্তু হঠাৎ সেখানে জিয়াউর রহমানের মাজার করা হয়েছে। এর ফলে ক্রিসেন্ট লেকের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে সবাই যদি একমত পোষণ করেন এবং ওটা যদি সচিবালয়ের জন্য নির্ধারিত থাকে, তাহলে মাজার সরানো যেতে পারে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেছেন ওখানে আসলে জায়গাটা খালি ছিল। সেখানে মাজার করার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। নিয়ম না মেনেই এই মাজার করা হয়েছে।
এ সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, দেশের মানুষের সেবা বাড়াতে এবং সরকারি অফিস করার স্বার্থে জিয়াউর রহমানের মাজার ঢাকার বাইরে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। আর ওই জায়গায় সচিবালয় স্থানান্তর করলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে।
জানা গেছে, সংসদ ভবনের উত্তরে ৭৪ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত চন্দ্রিমা উদ্যানের মাঝখানে বিশাল এলাকা নিয়ে গড়ে তোলা হয়েছে জিয়ার মাজার কমপ্লেক্স। আর জিয়া ও এরশাদের শাসনামল মিলিয়ে সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে মানিক মিয়া এভিনিউর পশ্চিম প্রান্ত লাগোয়া স্থানে পাঁচ বিঘারও বেশি জায়গাজুড়ে ‘জাতীয় কবরস্থান’ নাম দিয়ে আরো অন্তত সাতজনকে সমাধিস্থ করা হয়।
তাদের মধ্যে ১৯৭৯ সালে সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ ও রাজনীতিক মসিউর রহমান যাদু মিয়া, ১৯৮০ সালে তমীজ উদ্দিন খান, ১৯৮২ সালে খান এ সবুর এবং ১৯৯১ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী আতাউর রহমান খানকে কবর দেয়া হয়। প্রত্যেকের কবরে তোলা হয় পাকা সমাধিসৌধ।
এ ছাড়া নাম-পরিচয়ের সাইনবোর্ডহীন আরো দুটি কবর দেখা যায় এই ‘জাতীয় কবরস্থানে’। এর একটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজের।
এখান থেকে সরিয়ে কোথায় এসব কবর নিয়ে যাওয়া হবে তা এখনো ঠিক করা না হলেও সরকার মহলে এ নিয়ে ভালোই তোড়জোড় শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে সামনে রাখা হচ্ছে সংসদ ভবন সীমানার পূর্ব প্রান্তে আসাদ এভিনিউর উল্টোদিকের পেট্রল পাম্পটি সরিয়ে নেয়ার নজির।
Authors
Top