ট্যাক্সি ড্রাইভার থেকে শহর নির্মাতা

images

অস্ট্রেলিয়ানদের কাছে, এমনকি নিজের স্ত্রীর কাছেও তিনি ছিলেন ‘পাগলাটে’ মহা সিন্নাথাম্বি। কেননা, ট্যাক্সি চালক হয়েও তিনি চাইতেন অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করতে! অথচ দুই দশক পর ওই মালয়েশিয়ান-বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম ধনী ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন। সেখানে গ্রেটার সিপ্রংফিল্ড নামের দ্রুত-বর্ধনশীল একটি শহরও নির্মাণ করছে তার কোমপানি। কোমপানির ওয়েবসাইটে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্যানবেরার পর গ্রেটার সিপ্রংফিল্ডই হবে অস্ট্রেলিয়ার সমপূর্ণ পরিকল্পিত শহর। এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ান পত্রিকা দ্য স্টার।

১৯৭০ সাল থেকেই অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে থাকতেন মহা সিন্নাথাম্বি। ২৩ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রেটার সিপ্রংফিল্ড নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সিন্নাথাম্বি বললেন, তারা আমার কথা শুনে খুব হেসেছে। আমি গিয়ে বলেছিলাম, আমি একটি শহর নির্মাণের পরিকল্পনা করেছি। তারা জবাবে বলেছিল, আমি পাগল হয়ে গেছি! কিন্তু ২৩ বছর পরে হলেও, তার স্বপ্নের গ্রেটার সিপ্রংফিল্ড শহর বাস্তবে রূপ নিছে। এটিই এখন সিন্নাথাম্বির শত কোটি ডলার সমপত্তি থাকার মূল কারণ। এ শহরটি হবে সিডনির চেয়েও আকারে দ্বিগুণ। থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি ও অবসর যাপনকেন্দ্র। ২০৩০ সালের মধ্যে এ শহরের বাসিন্দার সংখ্যা হবে ১ লাখ ৫ হাজার। এক সাক্ষাৎকারে মহা সিন্নাথাম্বি বলেছিলেন, তার শৈশব ছিল অত্যন্ত কঠিন। শৈশবকাল কেটেছে মালয়েশিয়ার নেগরি সেমবিলানে। সেখানে ছিল না বিদ্যুৎ। কেরোসিন জ্বেলে রাতে পড়তে হতো। তিনি বলেন, আমি হচ্ছি সে ব্যক্তি, যে তার জীবনের পুরোটা সময় লড়াই করে বেঁচেছে। কিন্তু এ কারণেই আমি এখানে রয়েছি বলে মনে করি। আপনাকে হয়তো অনেকে লড়াই করতে পরামর্শ দেয়। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে লড়াই ছিল বাধ্যতামূলক। অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ফল বিক্রি, ট্যাক্সি চালানো, ব্যবহৃত গাড়ি মেরামত ও বিক্রির মতো কাজ করতেন তিনি। তার শিক্ষাগ্রহণও ছিল ঝঞ্ঝাটপূর্ণ। নিউ সাউথ ওয়েলস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং-এ স্নাতক ডিগ্রি পেতেও বহু চড়াই-উতরাই পার হতে হয়েছে। বেশ কিছুকাল বেকার থাকার পর হঠাৎ রিয়েল স্টেট ব্যবসায় ঢুকেন তিনি।

তিনি বলেন, আমি অনেক ধনী হয়েছিলাম, কিন্তু প্রযুক্তিগত ভুলে সব হারিয়েছি। ফলে আবার একেবারে শুরু থেকে শুরু করতে হয়েছিল। তবু আমি হাল ছাড়িনি। তার চার সন্তান রয়েছে, তাদের ঘরে ৯ নাতিও আছে। তার মতে, সব কিছু নিয়ে অভিযোগ করাটা মালয়েশিয়ানদের উচিত নয়। মালয়েশিয়ার সম্ভাবনা প্রভূত। শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও পুনঃপ্রশিক্ষণের দিকে সরকারের দৃষ্টি দিতে হবে। তার ভাষায়, শিক্ষা হচ্ছে একমাত্র মুদ্রা, যেটি বিশ্বের যে কোন স্থানে চলবে। আপনার মাথার ভেতর যা আছে, তা কেউই চুরি করতে পারবে না। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সমপর্কে জানালেন, তিনি গ্রেটার সিপ্রংফিল্ড নির্মাণেই ব্যস্ত থাকবেন। সমাজকেও কিছু ফিরিয়ে দেবেন। তবে এসব যাকে তাকে দেবেন না। যার দরকার তাকে দেবেন। তার ভাষায়, যে হাঁটতে পারে, তাকে ক্রাচ দিয়ে লাভ নেই। আমি মনে করি, মানুষকে প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা দেয়া দরকার আমাদের। যাতে তারা উপার্জন ও সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে।  –   মানবজমিন

Authors
Top