ডাইনোসরের ডিএনএ

dinosor dna
সম্প্রতি জার্মানীর বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরের ডিএনএ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার লিখেছেন। এই ফিচারের ডাইনোসরের ইতিহাসের পাশাপাশি এই বিলুপ্ত প্রাণীর ডিএনএ নিয়ে তথ্য উপস্থাপনকরা হয়েছে। সারা বিশ্বের অনেক বিজ্ঞানী বিলুপ্ত প্রাণীদের নিয়ে অনেক গবেষণা চালিয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড়গুলো হলো ডাইনোসর। উত্তর চীনের সমভূমিতে প্রায় শখানেক পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। এ ছাপগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড়টির দৈর্ঘ্য ছিল ২৩ ইঞ্চি ও প্রস্থ ২০ ইঞ্চি আর ছোট পায়ের ছাপের দৈর্ঘ্য ৮ ইঞ্চি ও প্রস্থ ৫.৫ ইঞ্চি।
অন্যদিকে, দক্ষিণ ইয়েমেনে শক্ত শিলার ওপর ডাইনোসরের পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে। বিজ্ঞানীরা জানান, অ্যারাবিয়ান পেনিনসুলায় এটাই প্রথম আবিষ্কার। ধারণা করা হয়_ এগুলো দুই পাবিশিষ্ট খাদক ডাইনোসরের। বহু দিন পর্যন্ত এগুলো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। কারণ এগুলো পাথরের নিচে চাপা পড়ে গিয়েছিল। এগুলো ইয়েমেনের রাজধানী সানার উত্তরের জনবিরল মাদার গ্রামে পাওয়া গেছে। সে দেশের এক সাংবাদিক এগুলো আবিষ্কার করেছেন। ধারণা করা হয়, এগুলো ত্রিয়াশিক যুগ থেকে ক্রিটাশিয়াস যুগে বিলুপ্ত হয়। ২০০৬ সালে সানা বিশ্ববিদ্যালয় এখানে এক অনুসন্ধান চালায়। তারা একে চার পা-ওয়ালা হাতিসদৃশ লম্বা সরাপডস গোষ্ঠীর বলে মত দেন। নেদারল্যান্ডের মাসাট্রকট হিস্ট্রি অব ন্যাচারালের ড. আন্না স্কালপ গবেষণার জন্য এটা নেদারল্যান্ডে নিয়ে যান। তারা বলেন, বড় ১১টি প্রাণী একই দিকে যাচ্ছিল। এরা বিভিন্ন বয়সী, একত্রে বসবাস করত। অ্যারাবিয়ান এলাকায় এটা বিরল। এর মধ্যে ওমানে কিছু হাড় ও ইয়েমেনে কিছু ক্ষুদ্র হাড় পাওয়া গেছে। লন্ডনের ন্যাচারাল মিউজিয়ামের জীবাশ্মবিজ্ঞানী পল ব্যারেট জানান, পিএলওএস নামক জার্নালে মধ্য-পূর্ব এশিয়ার ডাইনোসর সম্পের্কে বিশদ তথ্য ছাপা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, ডাইনোসরের তথ্য পাওয়া বিশ্বে সত্যি দুর্লভ এক ব্যাপার।

ডিমসহ ডাইনোসরের জীবাশ্ম সমপ্রতি আবিষ্কার করেছেন_ একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানীদের দল। একসঙ্গে ২টা ডিম পাড়ার ঠিক আগ মুহূর্তেই মারা গেছে এ দুর্ভাগা প্রাণীটি। ডাইনোসরের দেহের ভেতরেই দৃশ্যমান ডিম দুটি শক্ত আবরণ যুক্ত। শ্রেণিদেশের (মেরুদ-ের নিচের অংশ ও নিতম্বের মধ্যকার অস্থি কাঠামোর) কাছে সংযুক্ত ডিমগুলোর পুরোটাই জীবাশ্মে পরিণত হয়েছে। ডাইনোসরের বংশ বৃদ্ধির প্রক্রিয়া বর্ণনা করতে গিয়ে তামাকি সাটো (জীবাশ্ম বিজ্ঞানী) ও অন্য সহকর্মীরা মিডিয়াকে জানান, ডাইনোসরের বংশ বৃদ্ধির সঙ্গে সরীসৃপ ও আধুনিক পাখিদের মধ্যে অনেক মিল পাওয়া গেছে। আর প্রাণীটি সম্ভবত থেরোপড প্রজাতির ছিল। দ্বি-পদ প্রাণীদের মধ্যে একটি বড় প্রজাতি হলো থেরোপড। ধারণা করা হলো- এগুলো ৩-৪ মিটার লম্বা ছিল। মাংসাশী এই ডাইনোসররা পাখিসাদৃশ্য ছিল। দেখা গেছে, কুমিরের মতো এটার ও পুনরোৎপাদন পদ্ধতির মিল আছে। কুমিরের মতো এটার ও ২টি ডিম্বাশয় ও ২টি ডিম্বনালী রয়েছে। ডিমগুলো ডিম্বনালী দিয়ে গর্ভাশয়ে আসে। পরে ডিমগুলোর চারপাশে শক্ত খোলস তৈরি এবং বড় হয়। তবে কুমিরের মতো একবারে নয়, পাখির মতো এরা ডিম পাড়ত। এরকম ১২টার বেশি ডিম ও বেশ কয়েকটি ডাইনোসরের বাসা পাওয়া গেছে। এই বাসা ও ডিমগুলো দেখে এই ধারণা করা হয়ে থাকে। কানাডার রাজধানী ওটোয়া মিউজিয়াম অফ নেচার পত্রিকায় মিস্টার তামাকি সাটো লিখেছেন, এটি খুবই ব্যতিক্রম ধরনের দুর্লভ ঘটনা, যে জীবাশ্ম দেহের অভ্যন্তরে একসঙ্গে এতগুলো খোলসযুক্ত ডিম পাওয়া যাবে।
ডাইনোসর এক সময় পাখির মতো উড়ে বেড়াত বলে প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চীনের উত্তর পূর্বাঞ্চলে তারা ডাইনোসরের যা মিল পেয়েছেন। এ মিলটি দেখে তারা নিশ্চিত হয়েছেন পাখির মতো এদের ও উড়ার জন্য ডানা ছিল। প্রায় ১৫০ বছরের পুরনো যুগের পাখিরা যে ডাইনোসর বংশোদ্ভূত সে সম্পর্কে মত প্রবল করেন চীনের প্রফেসর জিউ জিং ও তার সহকর্মীরা। নতুন এ ফসিলটি পাওয়ার পর আর্কিপটেক্সের বিবর্তন নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন বিজ্ঞানীরা। চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্সের প্রফেসর জিউজিং জানান_ দুটি ভিন্ন স্থানে এ ফসিলগুলো পাওয়া গেছে। ডাইনোসরের এ ফসিলের নাম দেয়া হয়েছে_ অ্যানকিউনিস হাক্সলিই। খুব সম্ভবত এর ৪টি পাখা ছিল। বাহু, লেজ ও পা ছিল লোমে আবৃত। তিনি বলেন, এটা সংরক্ষণ করা জরুরি। এ ফসিলটিতে লক্ষ্য করলেই এর পাখার ব্যাপারটি বোঝা বা টের পাওয়া যায়। পাখির বিবর্তন ও এর ওড়ার ক্ষমতাটা দ্বিতীয়টি পাওয়ার পরই আরো স্পষ্ট হয়েছে। বিজ্ঞানীরা তাদের গবেষণায় এই নতুন তথ্যটি আবিষ্কার করেছেন। যা ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ডাইনোসর থেকে পাখিতে বিবর্তিত হওয়ার জন্য চার পাখাবিশিষ্ট আকারটি একটি বিশেষ ভূমিকা পালন করছে বলে বিজ্ঞানীরা জানান। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অফ ব্রিস্টলের সোসাইটি অব ভার্টাব্রেট প্যালিনটোলেজিস্টে এটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির জীবাশ্ম বিজ্ঞানী মিচেল রেনটন একে আসলেই অদ্ভুত বলে ব্যক্ত করেন। বিবিসি সংবাদাতাকে জানান, ডাইনোসরের জীবনচিত্র এভাবে চোখের সামনে চলে আসবে। আর্কপটেরিক্রের প্রায় ১ কোটি বছর আগের এ ফসিল বলে ধারণা করেছেন তিনি। প্রফেসর জিউ জিয়াং এ গবেষণাকর্মে যে দক্ষতা দেখিয়েছেন তা বিজ্ঞানীদের অনেকটা এগিয়ে দেবে।
এই শাক ও পাতা খাওয়া ডাইনোসরের নাম ছিল হেরিজিনো সওরাস। এরা পুরোপুরি গাছপালা বা শাকপাতা খেয়ে জীবনধারণ করত। এদের সম্পর্কে বিজ্ঞানীরা অনেক দিন ধরেই জানতেন। কিন্তু মার্কিন বিজ্ঞানীরা এখন সম্পূর্ণ নিরামিষভোজী ও সম্পূর্ণ মাংসভোজী ডাইনোসরের মধ্যে যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উটা অঙ্গরাজ্যে বিজ্ঞানীরা বেশ কয়েক বছর আগে এখন কতকগুলো ডাইনোসরের দেহাবশেষ (কঙ্কাল) আবিষ্কার করেছেন। যেগুলো শাক-পাতা ও মাংস দুটোই খেত। তারা এদের নাম দিয়েছেন কালকেরিয়াস উটা হেঞ্চিস। এরা প্রায় সাড়ে ১২ কোটি বছর আগে পৃথিবীর বুকে বিচরণ করত বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা।
প্রাণী বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরকে সরীসৃপ হিসেবে ভাগ করেছেন। তাই বিভিন্ন প্রকার ডাইনোসররা হলো_ যথা. ১. ব্রান্টোসোরাস ২. ব্রাচিও সোরাস ৩. স্টেগোসোরাস ৪. ডিপলোপডুকাস ৫. টাইরানোসোরাস ৬. টাইরানোসোরাস ৭. টাইরাডন্টোসোরাস ইত্যাদি। তবে বিভিন্ন প্রকার এই প্রাণীর নাম ডাইনোসর। প্রাণী ও ফসিল বিজ্ঞানীরা ডাইনোসরকে ঝধাৎপযরধ ও জঁঃঃযরংপযরধ এ দুই প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করেছেন। কিছু কিছু ডাইনোসর ৬০-৭০ ফুট দীর্ঘ ছিল। ব্রান্টোসোরাস উঁচু হয়ে দাঁড়ালে ৪টি হাতির সমান দেখাত। ডিপলোপডুকাস ছিল, ৯০ ফুট দীর্ঘ। তবে ব্রাচিওসোরাসের চেয়ে কিছুটা ক্ষীণকায়। ব্রাচিওসোরাস ছিল সবচেয়ে বৃহদাকার ডাইনোসর। তবে আদিম পৃথিবীর স্থলভাগে এত বড় আর কোনো প্রাণী ছিল না। ব্রাচিওসোরাস অনায়াসে ৩ তলা দালানের সমান উঁচুতে স্পর্শ করতে পারত। প্রকা- দেহ নিয়ে এরা অধিকাংশ সময় পানিতে বাস করত। জলভাগ ও স্থলভাগ উভয় স্থানেই এরা তৃণ ভোজন করত। বিজ্ঞানীরা প্রত্যেক মহাদেশেই এদের ফসিল আবিষ্কার করেছেন। মাংসভোজি ঞযবৎড়ঢ়ড়ফং শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল। তারা ডিম থেকে শুরু করে সব প্রাণী ধরে খেত। তারপর এক সময় পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে ডাইনোসরের জীবনধারণ অসম্ভব হয়ে পড়ে। তৃণলতার পরিবর্তে নতুন ধরনের গাছপালার জন্ম হয়। তাছাড়া নানা অজ্ঞাত কারণে এরা মরতে শুরু করে। – See more at: http://www.jjdin.com/?view=details&archiev=yes&arch_date=09-03-2015&feature=yes&type=single&pub_no=1125&cat_id=3&menu_id=66&news_type_id=1&index=0#sthash.8NnfUTEj.dpuf

Authors
Top