ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা বাড়ছে: মোহাম্মদ রেজাউল হক, সম্পাদক , আপডেট বিডিনিউজ ডটকম

IS download

ভূ-রাজনৈতিক কারণে বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতা বাড়ছে

মোহাম্মদ রেজাউল হক

সম্পাদক , আপডেট বিডিনিউজ ডটকম

 

বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা নানা দিক দিয়ে বিকশিত হচ্ছে৷ দেশের ভেতরে জঙ্গিদের নানা গ্রুপ তো আছেই, এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইএস-এর তৎপরতা৷ এতদিন জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের কর্মকাণ্ডের কথা বাংলাদেশ তেমনভাবে লক্ষ্য করা যায়নি। কিন্তু এবার ঢাকার একটি রেস্টুরেন্টে ২০ বিদেশি নাগরিককে হত্যার দায় স্বীকারের মাধ্যমে তাদের তৎপরতা ব্যাপকভাবে ফুটে উঠেছে৷

 

আইএসের মুখপাত্র দামিকে সম্প্রতি ওই সংগঠনের বাংলাদেশ শাখা গঠনের খবর প্রকাশিত হয়েছে এবং এই শাখার প্রধানের একটি সাক্ষাৎকারও প্রকাশিত হয়েছে। ওই সাক্ষাৎকারে বাংলাদশে আইএসয়ের ঘাঁটি স্থাপন করে ভারত ও মিয়ানমানের বিরুদ্ধে জিহাদ পরিচালনার কথা বলা হয়েছে।

 

ভূ-রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং আগামী দিনের তেল-গ্যাস ও খনিজ সম্পদের মূল উৎস ভূমি হবে বঙ্গোপসাগর। মধ্যপ্রাচ্য আজ ধ্বংসের মুখে। তেলের দাম পড়ে গেছে। জাতিগত সংঘাতে বিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য অচিরেই দরিদ্র অঞ্চলে পরিণত হবে। তেলের দাম কমে যাওয়ার ফলে সৌদি আরবের মতো ধনী রাষ্ট্রও বাজেট ঘাটতি পূরণে ঋণ গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে। অন্য রাষ্ট্রগুলোর কী অবস্থা তা আমাদের অজানা নয়।

 

অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের তলদেশে বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ রয়েছে। ভারত, বাংলাদেশ ও মিয়ামারের মধ্যে জলরাশি নিয়ে বিরোধ থাকায় এতদিন তা উত্তোলন করা সম্ভব হয়নি। সম্প্রতি ওই বিরোধের মীমাংসা হওয়ায় তা উত্তোলনের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। পশ্চিমা পরাশক্তির ওই সম্পদের উপর নজর রয়েছে। তাছাড়া আগামী দিনে পশ্চিমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ চীনকে মোকাবেলা করার জন্য তার বঙ্গোপসাগরে  স্থায়ী ঘাঁটি স্থাপন করা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের মোড়ল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চীনকে মোকাবেলায় ভারতের সাথে সামরিক সহযোগিতা চুক্তি এবং ভারতের নিরাপত্তায় পারমানবিক সাবমেরিন মোতায়েনের পরিকল্পনা থেকে বিষয়টি স্পষ্টত উপলদ্ধি করা যায়।

 

বঙ্গোপসাগরে স্থায়ী ঘাঁটি গড়তে পারলে ওই ঘাঁটি থেকে শুধু দক্ষিন এশিয়া অথবা চীন নয়, রাশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উপরও যুক্তরাষ্ট্র পূর্ণ নজরদারি করতে পারবে। আর ওই ঘাঁটির জন্য ভারত নয়, বাংলাদেশের উপকূলই মার্কিনীদের দরকার। বাংলাদেশে আইএসের তৎপরতার মূল কারণ এটাই। কারণ আইএস যে ইসরায়েল ও আমেরিকার সৃষ্টি সেটি এখন দিবালোকের মত পরিষ্কার। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ খবরও প্রকাশিত হয়েছে।

 

বাংলাদেশে এখন ইরাক ও সিরিয়া ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস-এর তত্‍পরতা স্পষ্ট৷ কিন্তু সরকার এ বিষয়টিকে বারবার অস্বীকার করে আসছে। কিন্তু সরকারের এটা বোঝা উচিত যে, জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব অস্বীকার করলে নিরপত্তা সংকট কমে না, বরং বাড়ে৷ আইএস নেই বললেই তার তৎপরতা বন্ধ হয় না, বরং তারা আরো শক্তি সঞ্চয় করে৷

 

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করে, তাদের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে জঙ্গিদের আক্রমণ বন্ধ করা যায় না৷ এতদিন বাংলাদেশের মানুষ দেখেছে ‘টার্গেট কিলিং’৷ মুক্তমনা, ব্লগার, প্রকাশক, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ, পুরোহিত, যাজক বা এলজিবিটি গ্রুপের সদস্যদের হত্যা৷ আর এবার দেখল জিম্মি করে ২০ জন বিদেশিকে হত্যা৷

 

বাংলাদেশের মতো একটি শান্তি প্রিয় দেশে কখনো জঙ্গিবাদের স্থান হতে পারে না। বাংলাদেশের জন্মের পর থেকে জঙ্গিবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট৷ এ নিয়ে কোনো অস্বচ্ছতা নেই৷ তবে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তথ্য বিনিময়ের ব্যাপারেই বাংলাদেশ সরকারের আরো মনোযোগী হওয়া উচিত৷

Authors
Top