মস্তিষ্কের সক্রিয়তা উপলব্ধির প্রযুক্তি

brain 1
বর্তমান সময়ে এসে চিকিৎসা বিজ্ঞান ও আণবিক জীববিজ্ঞান অনেক অজানা তথ্য নিয়মিত উন্মোচন করার ক্ষমতা অর্জন করেছে ইমেজিং প্রযুক্তির কল্যাণে। এমআরআই, এফএমআরআই, পেট, ক্যাট, ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি, ম্যাগনেটোএনসেফালোগ্রাফি, ইরোস ইত্যাদি প্রযুক্তি মস্তিষ্কের অভ্যন্তরের ত্রিমাত্রিক চিত্র দেয়ার পাশাপাশি মস্তিষ্কের কোন অংশ সক্রিয় কোন অংশ নিষ্ক্রিয়, মস্তিষ্কের নিউর‌্যাল আর জেনেটিক সার্কিটগুলো সম্পর্কে ধারণা প্রদানসহ অসাধারণ সব সুবিধা গবেষক আর বিজ্ঞানীদের দিয়ে যাচ্ছে। এ সাফল্য থেকেই বিজ্ঞানীরা ‘হিউম্যান জিনোম প্রজেক্ট’-এর মতো শুরু করেছেন ‘হিউম্যান কগনোম প্রজেক্ট’। পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় বস্তু মস্তিষ্ককে উন্মোচনের নেশায় মেতেছেন বিজ্ঞানীরা।
ব্রেইন ইমেজিংয়ের সূত্রপাত হয় এক্স-রে ইমেজিং দিয়ে। এ এক্স-রে ইমেজিংয়েরই উন্নত সংস্করণ হচ্ছে কম্পুটেড টোমোগ্রাফি (সিটি স্কান) বা কম্পুটেড এক্সিয়াল টোমোগ্রাফি (ক্যাট)। কোনো আঘাতের চিহ্ন বা তীব্রতা বোঝার জন্য চিকিৎসকরা সিটি স্ক্যানের সহযোগিতা নেন। ক্ষতিকর টিস্যু থেকে যে নিঃসরণ হয় তার পরিমাপ এক্স-রে বিমের থেকে পাওয়া যায়। একটি ছোট্ট স্থানে কতটুকু এক্স-রে বিম শোষিত হচ্ছে তা থেকে ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা করা যায়। এক্স-রে ইমেজ কম্পিউটারে প্রদর্শিত হয়। গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে ইমেজকে বাস্তবসম্মত ও সুস্পষ্ট করার চেষ্টা করা হয়।

আরেক ধরনের ইমেজিং প্রযুক্তি হচ্ছে ডিফুজ অপটিক্যাল ইমেজিং বা ডিফুজ অপটিক্যাল টোমোগ্রাফি (ডট)। এ পদ্ধতিতে ইনফ্রারেড লাইটের সাহায্যে মস্তিষ্ক ও দেহের ইমেজিং করা হয়। তবে এটি বেশি জনপ্রিয় নয়।
অন্যদিকে ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি (ইইজি)-তে ইলেকট্রিক ফিল্ডের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ইলেকট্রিক্যাল কার্যক্রম পরিমাপ করে ইমেজিং করা হয়। আর ম্যাগনেটোএনসেফালোগ্রাফি (মেগ)-এ চুম্বক ক্ষেত্রের সাহায্যে মস্তিষ্কের ইলেকট্রিক্যাল কার্যক্রম পরিমাপ করে ইমেজিং করা হয়। ইইজি এর চেয়ে বেশি কার্যকর এবং ব্যবহার করা সহজ।
ইভেন্ট রিলেটেড অপটিক্যাল সিগন্যাল (ইরোস) পদ্ধতিতে ডট পদ্ধতির মতো ইনফ্রারেড লাইট ব্যবহার করা হয় তবে এ ক্ষেত্রে ইরোস পদ্ধতিতে কাজ করা সহজ। ইরোস খুব স্বল্পসময়ে ক্ষুদ্র স্থানের সক্রিয়তা ও তীব্রতা পরিমাপ করতে পারে বলে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি পদ্ধতি।
আরেকটি জনপ্রিয় ইমেজিং প্রযুক্তি হচ্ছে পজিট্রন ইমিশন টোমোগ্রাফি বা পেট। এ প্রযুক্তির কাজ করে মেটাবলিক্যালি অ্যাকটিভ তেজস্ক্রিয় রাসায়নিকের সহযোগিতায়। রক্তের মধ্যে এ রাসায়নিক ইনজেকশন করে প্রবেশ করানো হয় এবং তারপর সুনিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে যন্ত্রের সাহায্যে ইমেজিং করা হয়। এটি অনেক জনপ্রিয় একটি ইমেজিং পদ্ধতি।
ইমেজিং প্রযুক্তিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় হচ্ছে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এমআরআই) ও ফাংশনাল ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (এফএমআরআই)। এ প্রযুক্তি ব্যবহার সহজ ও মস্তিষ্কের ত্রিমাত্রিক চিত্র প্রদানে সক্ষম। এফএমআরআই মস্তিষ্কে রক্তপ্রবাহের তারতম্য তুলনা করার মাধ্যমে ইমেজ করে দেখায় যে মস্তিষ্কে কোন অংশ বেশি সক্রিয় আর কোন অংশ কম সক্রিয়। এভাবে কোনো কাজ করার সময় কোনো ব্যক্তির কোন অংশ সক্রিয় থাকে বা মস্তিষ্কের কোন অংশ কী কাজ করে তা এফএমআরআই প্রযুক্তির সাহায্যে জানা সম্ভব হচ্ছে। তা ছাড়া মস্তিষ্কের জেনেটিক ও নিউর‌্যাল বিন্যাস উন্মোচনে এ প্রযুক্তি সবচেয়ে বেশি কার্যকর।

Authors
  
Top