মানুষশূন্য একটি শহরের কাহিনী!

iusbxle

বাংলাদেশের রাজধানী শহর ঢাকা। দুই কোটি মানুষের বেশি বসবাস। এমনি দেশের বিভিন্ন শহরের দিকে দেখলে দেখা যাবে বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস শহর কেন্দ্রীক। প্রতিবেশী দেশগুলোর শহর কলকাতা, মুম্বাই, দিল্লী, আমেদাবাদ, হায়দারাবাদ, চেন্নাই, জয়পুর, কাঁচি, করাচি, লাহোর, ইসলামাবাদ, কলম্বো শহর গুলো দেখলে দেখা যাবে একই চিত্র। কিন্তু আপনি জেনে অবাক হবেন যে, পৃথিবীতে এমনই শহর আছে যেখানে কোন মানুষ বাস করে না। চলুন জেনে নেওয়া যা সেই মানুষশূণ্য শহরের আত্মকাহিনী।

ছবিতে দেখে বোঝা যাচ্ছে সুন্দর একটি শহর। পাহাড়ে ঘেরা শহরে দাঁড়িয়ে রয়েছে সারি সারি সুউচ্চ ভবন। রয়েছে নয়নাভিরাম বাগান। সেইসঙ্গে রয়েছে বাচ্চাদের খেলার মাঠ, রোমান নকশায় তৈরি সিনেমা হল, মনোহারি দোকান, রেস্তোরাঁ আরও কত কিছু! কিন্তু নেই কোনো মানুষ। এর একটি কারণ এই সুন্দর শহরটিতে যে নেই জীবন-যাপনের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ পানি! আর তাই এই ঝাঁ চকচকে শহরটি এখন মনুষ্যহীন এক নিস্তব্ধ নগরী।

আমরা অনেকেই জানি ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত ঘুম ভাঙে রকেট-মর্টারের বিস্ফোরণের শব্দে। ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন- বিবাদমান দুই পক্ষের প্রতিনিয়ত লড়াইয়ের জায়গা এটি। অথচ এর একপাশে গড়ে উঠেছে এক অনিন্দ্য সুন্দর শহর।িএই শহরটির নাম রাওয়াবি। সংঘাতের পাশে এর অবস্থান যেনো এক শান্তি প্রতিষ্ঠার আকুলতাকেই প্রকাশ করে থাকে।

এই শহরটির স্বপ্নদ্রষ্টা হলেন ফিলিস্তিন বংশোদ্ভুত কোটিপতি বাশার মাসরি। কী চিন্তা কাজ করেছিল এটির নির্মাণে? জবাবে তিনি বলেন, ‘এটি ফিলিস্তিনের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আবাসন প্রকল্প। এর কাছাকাছি কেনো, পরিমাপে এর অর্ধেক প্রকল্পও এর আগে কখনও হয়নি এই অঞ্চলে। প্রায় ২৫ হাজার লোকের আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে এখানে। আমার ইচ্ছে ছিল এমন একটি আবাসন গড়বো, যেখানে ফিলিস্তিনিরা সংঘর্ষের বাইরে শান্তি খুঁজে পাবে। নিজেদের জীবনটাকে একটু অন্য চোখে দেখবে তারা। একটু সুখের স্পর্শ পাবে, তাদের সর্বদা অশান্ত আর উত্কণ্ঠায় ভরা জীবনের।’

কিন্তু বাশার মাসরির সেই স্বপ্ন এখনও কল্পনাতেই রয়ে গেছে। এর কারণ হলো মানববসতি গড়ার জন্য যে পানির প্রয়োজন, তার সরবরাহই যে বন্ধ। শহরটির অবকাঠামো এবং স্থাপনা নির্মাণ শেষ হওয়ার পর হতেই পানির সংযোগ পাওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন তিনি। শহরের চাহিদার কথা জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন এ সংক্রান্ত নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘জয়েন্ট ইসরায়েলি-প্যালেস্টাইন ওয়াটার কমিটি’কে। শর্ত পূরণ করায় এ আবেদনের অনুমোদনও পাবার কথা। কিন্তু তারপরও থেমে রয়েছে সব কিছু।

ঘটনা হলো বছরখানেক ধরে একত্রে কোনো সভাই করেনি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের এই যৌথ কমিটি। ফলে ঝুলে রয়েছে পানি সরবরাহের বিষয়টি। আর তাই একই সঙ্গে ধূসর হচ্ছে রাওয়াবিতে মানুষের বসবাস। যেমনটা ঘটেছে আইমান ও সুহাদ ইব্রাহিমের ক্ষেত্রেও।

জানা যায়, ২০১৪ সালের প্রথমদিকে এই শহরের বাসিন্দা হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন তারা। আশা ছিল এখানেই একটি রেঁস্তোরা খুলে জীবিকা নির্বাহ করবেন তারা। কিন্তু সে আশার গুড়েবালি। এখন তাই বেশ হতাশই হয়ে পড়েছেন এই দুই ভাই।

বাশার মাসরির এই উদ্যোগ কিন্তু ফিলিস্তিনের সবাই ভালো চোখে দেখছে না। শুরু থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে পরিণত হয় এই প্রকল্পটি। অনেক ফিলিস্তিনি মনে করেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে স্বাভাবিক করার মিশনে মূলত নেমেছেন এই ব্যবসায়ী। তার মূল লক্ষ্য শুধু লভ্যাংশ। আর সেকারণে ইসরায়েলের সঙ্গেও তিনি হাত মেলাতে পারেন। আর রাওয়াবিকে তারা দেখে থাকেন ধনীদের সুযোগ হিসেবে। রাওয়াবির একটি গড়পরতা ফ্ল্যাটের দাম প্রায় ৯৫ হাজার মার্কিন ডলারের মতো। পার্শ্ববর্তী শহর রামাল্লার তুলনায় কম হলেও অধিকাংশ ফিলিস্তিনি জনগণের কাছে তা এখনও ধরা-ছোঁয়ার বাইরে।

অভিযোগ প্রসঙ্গে বাশার বলেন, ‘আমি ইসরায়েলকে দখলদারই মনে করি। এগুলো আমাদের জমি। ওরা পশ্চিম তীরে গায়ের জোরে আবাস গড়েছে। আমি সব সময় এই দখলদারিত্বের ঘোর বিরোধী। সুতরাং ইসরায়েলের সঙ্গে আমার কোনো মিত্রতা থাকতে পারে না এবং নেইও।’

তিনি আরও বলেন, ‘মধ্যবিত্ত ফিলিস্তিনিরা এটি কিনতে পারবেন বলেই আমি মনে করি। তবে এর দাম আরও কমানো যেতে, যদি ফিলিস্তিনের কর্তৃপক্ষ আরেকটু সহায়তা দিতো।’

বাশার স্বপ্নের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি কল্পনায় দেখতে পাই, রাওয়াবির রেঁস্তোরাগুলোতে মানুষের ভিড়। মাঠে খেলা করছে শিশুরা। ফ্ল্যাটগুলোতে প্রতিবেশীরা কথা বলছে একে- অপরের সঙ্গে। সিনেমা হল থেকে ফিরছে হাজার হাজার মানুষ, তাদের মুখে বইছে প্রশান্তি আর সুখ।’

Authors
Top