যেকোনো পরিস্থিতির জন্য আমি প্রস্তুত: খালেদা। শান্ত্মিপূর্ণ আন্দোলনের নির্দেশনা

khalada zia 7

জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায় ঘিরে যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্ত্মুত আছেন বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, তিনি কোনো দুর্নীতি করেননি। ন্যায়বিচার হলে তিনি বেকসুর খালাস পাবেন।
খালেদা জিয়ার বিরম্নদ্ধে জিয়া এতিমখানা ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার কথা রয়েছে আজ। এ রায়কে ঘিরে দেশব্যাপী রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। রায় নিয়ে জনমনে চলছে নানা আলোচনা। পুলিশ দেশব্যাপী বিশেষ করে রাজধানীতে ব্যাপক ধর-পাকড় শুরম্ন করেছে। আজ থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত্ম ঢাকায় মিছিল করার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতির মধ্যে বুধবার বিকালে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন খালেদা জিয়া। এ সময় তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান এবং ন্যায়বিচার হলে খালাস পাওয়ার আশা প্রকাশ করেন। এ সময় পরিবারের কথা বলতে গিয়ে আবেগ প্রবণও হয়ে পড়েন তিনি।
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি খালেদা জিয়া কোনো অন্যায় করিনি। দুর্নীতি করিনি। জিয়া এতিমখানা ট্রাস্টের সঙ্গে কোনোভাবেই আমি জড়িত নই। এর কোনো টাকা সরকারি নয়। এক টাকাও তছরম্নপ হয়নি। বরং সুদে-আসলে সেই টাকা তিন গুণ হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ন্যায়বিচার হলে কাল আমার কিছু হবে না। বেকসুর খালাস পাব। বরং যারা মামলা করেছে তাদের বিচার হওয়া উচিত। আর শাসক মহলকে তুষ্ট করার জন্য রায় হলে ন্যায়বিচার পাব না।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমি যে কোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্ত্মত। জনগণ আমার সঙ্গে আছে। এ সরকার খালি মাঠে গোল দেওয়ার জন্য এসব করছে। তাদের খায়েস পূরণ হবে না।’
এ সময় পরিবারের কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগ প্রবণ হয়ে যান। তিনি বলেন, ‘এর আগে কারাবন্দি থাকার সময় মাকে হারিয়েছি। পরের বার বন্দি থাকার সময় এক সন্ত্মানকে হারিয়েছি। আরেক সন্ত্মান পঙ্গু অবস্থায় বিদেশে চিকিৎসাধীন।’
তিনি জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেক ফাঁদ পাতা হবে। ষড়যন্ত্র হবে। সবাই সতর্ক থাকবেন। বুঝে-শুনে কাজ করবেন।’ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি তিনি বলেন, জনগণের শান্ত্মিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা দেবেন না।
নির্বাচন নিয়ে আলোচনার প্রত্যাশা জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, এখনো আলোচনার মাধ্যমে শান্ত্মিপূর্ণ নির্বাচন হতে পারে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শুভবুদ্ধির উদয় হবে এমনটিও তিনি আশা করেন। দেশ এখন বৃহত্তর কারাগার। জনগণের শাসন কায়েম করে দেশকে মুক্ত করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আদালত রায় দেয়ার বহু আগেই শাসক মহল চিৎকার করে বলে বেড়াচ্ছে, আমার জেল হবে। যেন বিচারক নন, শাসক মহলই রায় ঠিক করে দিচ্ছে।’
প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার ‘চাপের মুখে’ পদত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেছেন, আদালত সব চাপ উপেক্ষা করে রায় দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে তিনি সন্দিহান।
তাকে মামলায় ফাঁসাতে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকলে এ মামলা যারা দায়ের করেছে তাদের বিরম্নদ্ধে মামলা হওয়া উচিত। যারা এ মামলা দায়েরের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের সাজা হওয়া উচিত।’ গতকাল বিকালে গুলশানে নিজের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলীয় নেতাদের সঙ্গে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন বিএনপি চেয়ারপারসন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, মাহবুবুর রহমান, মির্জা আব্বাস, আবদুল মইন খান, নজরম্নল ইসলাম খান, খন্দকার মাহবুব হোসেন, আমীর খসরম্ন মাহমুদ চৌধুরী ছিলেন তাদের নেত্রীর সঙ্গে।
পুরান ঢাকার বকশীবাজারের আদালতে জিয়া এতিমখানা দুর্নীতি মামলার রায়ের দিন ঠিক হওয়ার পর দফায় দফায় দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সিলেটে মাজার জিয়ারত করে আসার পর সংবাদ সম্মেলনে আসেন খালেদা।
এ রায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি কথার উত্তেজনায় ইতোমধ্যে উৎকণ্ঠা ছড়িয়েছে জনমনে; পাশাপাশি যে কোনো নাশকতার চেষ্টা ঠেকাতে পুলিশের তৎপরতা উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে খালেদা বলেন, ‘আমার বিরম্নদ্ধে এক মিথ্যা মামলায় বৃহস্পতিবার রায় হবে। এ রায়কে কেন্দ্র করে শাসক দল আমাদের চেয়ে ভীত হয়ে প্রতিবাদের অধিকার, মিছিলের অধিকার প্রশাসনিক নির্দেশে বন্ধ করেছে। জনগণের প্রতিবাদের ভয়ে ভীত হয়ে হীন পথ খুঁজে নিয়েছে এ অবৈধ সরকার। সারাদেশে তারা বিভীষিকা ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
রায় বিপক্ষে গেলে নিয়মতান্ত্রিক ও শান্ত্মিপূর্ণ আন্দোলনের ইঙ্গিত দেন বিএনপি চেয়ারপারসন। দেশবাসীর প্রতি আমাদের আবেদন, আমি আপনাদের সঙ্গেই আছি। দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য, আপনাদের জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে শান্ত্মিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাব।
তিনি বলেন, যারা গানপাউডার ছিটিয়ে আগুন দিয়ে বাস যাত্রী পুড়িয়ে মারে, যারা আন্দোলনের নামে বাসে আগুন, পেট্রোল পাম্পে আগুন, রেল স্টেশন পুড়িয়ে দিয়েছে, তারাই আজ আমাদের বিরম্নদ্ধে মামলা করছে।
‘আমরা সন্ত্রাসে বিশ্বাস করি না। সারাদেশে প্রকাশ্যে সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতারা।’ সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য সরকারকে আলোচনায় বসতে আবারও আহ্বান জানান খালেদা জিয়া। ‘এখনও আমরা আশা করে বসে আছি, আওয়ামী লীগের মধ্যে শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আসুন, আলোচনা করে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করি।’

Authors
Top