শব-ই মেরাজের তাত্পর্য

image

রজব মাস থেকেই রমজানের জন্য মানসিক প্রস্তুতি নেয়া হয়। আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-ও রজব মাস থেকেই রমজানের জন্য মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ করতেন। রাসূলের উম্মত হিসেবে আমাদেরও এমনটি করা উচিত। এই রজব মাসেই ঘটে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘটনা বা মোযেজা যাকে বলা হয় শবে মি’রাজ। আমরা সবাই জানি শবে মি’রাজ রাত্রির ঘটনা ঘটে আমাদরে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর জীবনে। এর ফযীলত, এর মাহাত্ম্য বলে শেষ করা যাবে না। হযরত সালমান ফারসী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, আল্লাহর রাসূল এরশাদ করেছেন, “রজব মাসের মধ্যে এমন একটি দিন আছে এবং এমন একটি রাত্র আছে, যে ব্যক্তি সেই দিন রোযা রাখবে এবং রাতে ইবাদত করবে তার আমলনামায় একশ’ বছরের রোযা এবং একশ বছরের ইবাদতের সওয়াব দেয়া হবে এবং সেই রাত্রেই হচ্ছে ২৭ তারিখ অর্থাত্ ২৬ শে রজব দিবাগত রাত এবং দিন হচ্ছে ২৭ তারিখ।” এই পবিত্র রাতে আল্লাহ তায়ালা সপ্তম আসমান পর্যন্ত ভ্রমণ করিয়ে, বেহেশত দোযখ দর্শন করিয়ে হযরত মুহাম্মদ (স.) কে তাঁর সান্নিধ্যে পৌঁছান। যে রাত্রিতে সৃষ্টিজগতের প্রতিপালকের সাথে আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) এর সাক্ষাত হয় সে রাত্রির ফযীলত কতখানি তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এই পবিত্র রাতে রাসূলুল্লাহ (স.) কে তিনটি জিনিস প্রদান করা হয়েছে। (১) পাঁচ ওয়াক্ত নামায, (২) সূরা বাকারার শেষ কয়েকটি আয়াত, (৩) রাসূল (সঃ) এর উম্মতদের মধ্য থেকে যারা আল্লাহর সাথে কাউকেও শরীক করেনি, তাদের মাফ করার ওয়াদাও দেয়া হয়েছে (মুসলিম)। হযরত হাফসা (রা.) বলেন, “চারটি জিনিস রাসূল (স.) কখনোই ছাড়তেন না। তা হলো আশুরার রোযা, জিলহজ্বের ১০টি রোযা, প্রতি আরবি মাসে ৩টি রোযা ও ফজরের আগে দু’রাকাত সুন্নত নামায” (নাসাঈ)। শবে মিরাজের রাত্রিটি খুবই মর্যাদাপূর্ণ রাত। এই মর্যাদাপূর্ণ রাত্রিটিতে যত বেশী ইবাদত করা যায় তত সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়। হাদীসে বর্ণিত আছে, “বেহেশতের মধ্যে একটি নহর আছে যার নাম রজব। তার পানি খুব সাদা এবং খুব ঠান্ডা ও মিষ্টি। যে ব্যক্তি রজবে রোযা রাখবে আল্লাহপাক তাকে সেই নহর হতে পানি পান করাবেন।” রাত্রিটিতে নামায, রোযা, তওবা, ইস্তেগফার এসব ইবাদত করার পাশাপাশি মনে রাখতে হবে যাতে ফজরের নামায ছুটে না যায়। কারণ অনেকেই আছেন, যারা সারারাত ইবাদত করে ঠিকই, কিন্তু ফজরের আগে আগে ঘুমিয়ে পড়েন। কথা হচ্ছে, আমাদের সর্বপ্রথম ফরজের দিকে সচেতন হতে হবে, তার পাশাপাশি নফল ইবাদত তো অবশ্যই আদায় করবো। তাই পাঠকবৃন্দ আসুন এই মর্যাদাপূর্ণ রাতটিকে আমরা হেয়ালি না করে বরং ইবাদতে মশগুল থেকে আল্লাহ তা’য়ালাকে সন্তুষ্ট করার পাশাপাশি নিজেদেরকেও সওয়াবের অধিকারী করে তুলি। নিজের গোনাহের জন্য আল্লাহর কাছে মাফ চাই, যাতে আমরা আল্লাহর খাছ বান্দা হয়ে জান্নাতের সুসংবাদ পেয়ে ইন্তেকাল করতে পারি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে সেই তাওফিক দান করুন, আমিন।

Authors
  
Top