শীতের পিঠা মেলা ২০১৩

pitha-utsob

নাইম আবদুল্লাহ: প্রতি বছরের মতো এবারও গত রবিবার ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের উদ্যোগে মিন্টুর গ্রেঞ্জ পাবলিক স্কুলে শীতের পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। বাংলা মায়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতায় সযত্নে লালন করা করে বেড়ে ওঠা এই বাংলা স্কুল আমাদের মায়ের ভাষা ও ঐতিহ্যকে ছড়িয়ে দিচ্ছে আমাদেরই কোমল-মতি ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের মনের গভীরে। দেশ থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে এবং নানা ধরনের প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও বাংলা ভাষা চর্চা ও বিভিন্ন অনুষ্ঠান পালনের মধ্যে দিয়ে প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করে আসছে।

সকাল এগারটা থেকেই মেলা প্রাঙ্গণ অংশগ্রহণকারী আর ক্রেতা দর্শকদের কোলাহলে মুখরিত হয়ে ওঠে। স্টলগুলোতে নানা ধরনের মুখরোচক আর সুস্বাদু পিঠার মধ্যে ছিল ভাপা, চিতই, পাটি সাফটা এবং রঙ বে রঙের পুলি। এই পিঠা মেলা থেকে বিক্রিত সমুদয় অর্থ বাংলা স্কুলের উন্নয়নের কাজে ব্যয় করা হবে।

 

pitha-utsob-2

ছবি – নাইম আবদুল্লাহ

 

মেলা প্রাঙ্গণে পিঠা মেলা ও বাংলা স্কুলের অন্যতম উদ্যোক্তা মাসুদ চৌধুরীর সাথে এই প্রতিবেদকের আলাপ হয়। দেশবিদেশ পত্রিকার পাঠকদের জন্য তা তুলে দেওয়া হোল।

প্রতিবেদক: পিঠা মেলা কবে প্রথম শুরু হয়?

মাসুদ চৌধুরী: গত পাঁচ বছর ধরে ক্যাম্বেলটাউন বাংলা স্কুলের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহের জন্য পিঠা মেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

প্রতিবেদক: পিঠা মেলায় অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে থেকে কি ধরনের সাড়া ও সহযোগিতা পাওয়া যায়?

মাসুদ চৌধুরী: পিঠা মেলায় অংশগ্রহণকারীদের অধিকাংশই স্থানীয় বাংলাদেশী পরিবার। তারা সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজেদের উদ্যোগে রাত জেগে পিঠা তৈরি করে পিঠা মেলায় অংশগ্রহণ করে। তারপর বিক্রির সমুদয় অর্থ স্কুল কমিটির কাছে প্রদান করে। বস্তুত তাদের একান্ত সহযোগিতা ছাড়া এই পিঠা মেলার আয়োজন সম্ভব ছিল না।

প্রতিবেদক: পিঠা মেলার মুল উদ্দেশ্য কি?

মাসুদ চৌধুরী: বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পিঠা ও পুলির সাথে আমাদের ছেলেমেয়েদের পরিচয় করিয়ে দেয়া আর অর্থ সংগ্রহের মাধ্যমে বাংলা স্কুলের আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার মেটানো।

প্রতিবেদক: বাংলা স্কুল নিয়ে আপনাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

মাসুদ চৌধুরী: এই স্কুলের বয়স তের বছর। সপ্তাহের মাত্র একদিন রবিবার সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত এই স্কুলের কার্যক্রম চালু থাকে। আমরা এর কার্যদিবস আরও বাড়িয়ে নূতন কারিকুলাম সংযোজনার নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

প্রতিবেদক: বাংলাদেশী কমিউনিটির কাছে বাংলা স্কুল নিয়ে আপনাদের প্রত্যাশা কি?

মাসুদ চৌধুরী: আমাদের ছেলেমেয়েদের মনের মণিকোঠায় বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিকে পৌঁছে দেয়ার জন্য সমাজের সর্বস্তরের বাংলা ভাষা-ভাষীদের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করছি।

প্রতিবেদক: যে কোন আয়োজনই যে কত কঠিন অথবা সময়-সাপেক্ষ ব্যাপার তা কেবল তার আয়োজকরাই ভাল বলতে পারবেন। দেশবিদেশ পত্রিকার পাঠকদের পক্ষ থেকে আপনাদের আন্তরিক ধন্যবাদ।

মাসুদ চৌধুরী: যারা আমাদের সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে এই পিঠা মেলা সার্থক ও সুন্দর করে তুলেছে তাদের সহ দেশবিদেশ পত্রিকার পাঠকদের সবাইকে আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞটা এবং ধন্যবাদ।

 

Authors
Tags

Related posts

Top