শৃঙ্খলাবিধির গেজেট গ্রহণ। প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্টের প্রাধান্য রয়েছে : আপিল বিভাগ

old high court

অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলা ও আচরণ বিধির গেজেটে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুপ্রিমকোর্টের প্রাধান্য রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আপিল বিভাগ। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ গেজেটটি গ্রহণ করে এ মন্তব্য করেন।

এদিন শুনানির শুরুতেই অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, আদালত চাকরি সংক্রান্ত শৃঙ্খলার বিধিমালা গেজেট আকারে জারির নির্দেশ দিয়েছিলেন। গত ১১ ডিসেম্বর সেটা জারি করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল আরো বলেন, আমাদের আরো একটি আবেদন আছে। ২০১৬ সালের ২৮ আগষ্ট এ আদালত যে আদেশ দিয়েছিলেন সেখানে ১১৬ অনুচ্ছেদের রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ছিল। আমরা সেটা প্রত্যাহার চাচ্ছি।

এসময় আদালত বলেন, সেটা করা যাবে। আগে গেজেটের বিধিগুলো পড়–ন। এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল বিধিমালা পড়তে গেলে মাসদার হোসেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিষ্টার এম আমীর-উল ইসলাম ডায়াসে দাঁড়ান। তিনি বলেন, বিধিমালা চ্যালেঞ্জ করে রিভিউ আবেদন করবো। এ বিষয়ে আমার একটি লিখিত বক্তব্য রয়েছে। সেটা দেখুন। সেটা নিষ্পত্তি করুন। তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী রুলস তৈরি করবে হাইকোর্ট। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর গেজেট জারি হবে।

এসময় আদালত বলেন, মাসদার হোসেন মামলায়ই আপিল বিভাগ রুলস তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী এর আগেও রুলস তৈরি হয়েছে। গেজেট জারি হয়েছে।এ সময় ব্যারিষ্টার আমীর বলেন, এই গেজেট নিয়ে কথা বলতে চাই। জবাবে আদালত বলেন, অবশ্যই বলবেন। রুলস-এ কি আছে সেটা দেখতে চাই। যদি অন্য কোনো কিছু থাকলে তাতো যেকোনো সময় পরিবর্তন করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু বলা হচ্ছে, আমরা সব দিয়ে দিয়েছি। কোথায় সব দিয়ে দিয়েছি, তা দেখান। গণমাধ্যমে উল্টাপাল্টা লেখা হচ্ছে।এরপর আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলকে গেজেট থেকে বিভিন্ন ধারা পড়তে বলেন। আদালতের কথা মতো অ্যাটর্নি জেনারেল বিভিন্ন ধারা পড়তে থাকেন। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ করার কথা আসা মাত্রই আদালত বলেন, দেখুন সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার বিধান করা হয়েছে।

এক পর্যায়ে আদালত বলেন, দেখুন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জায়গায় সুপ্রিম কোর্টের নাম ঢুকিয়েছি। আগে সুপ্রিম কোর্টের নাম ছিল না। সবখানে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করার কথা বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া অনুসন্ধান করা যাবে না। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়া সরকার কিছুই করতে পারবে না। অথচ পত্রিকায় লেখা হচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট সব দিয়ে দিয়েছে। বিধিমালার ২৯ নম্বর ধারা পড়ার সময় আদালত বলেন, এটাতো আরো মারাত্মক। ২৯ নম্বর ধারা দেখুন। সেখানে বলা আছে, কোনো বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিলে সেক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ প্রাধান্য পাবে। দুঃখ হলো, কেউ পড়ে না। এই ধারা না পড়েই আন্দাজে মন্তব্য করে। আমরা ৫ জন (আপিল বিভাগের ৫ বিচারপতি) বসলাম। আমরা কি এতই বোকা? আমরা কি নবীশ বিচারক? আমরা নাকি সব শেষ করে দিয়েছি। আদালত বলেন, উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ কোনো প্রস্তাব দিলেও সুপ্রিম কোর্ট পরামর্শ না দিলে কিছু করতে পারবে না উপযুক্ত কর্তৃপক্ষ। কোনো কিছু করতে হলে আমাদের (সুপ্রিম কোর্ট) পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। প্রতিটি পদক্ষেপে অবশ্যই সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।এসময় ব্যারিষ্টার এম আমীর বলেন, সুপ্রিম কোর্ট গেজেট গ্রহণ করার পর আমার আর কিছুই বলার থাকে না। এরপর আদালত আদেশ দেন।

শুনানি শেষে আদালত আদেশে বলেন, ‘২০১৬ সালের ২৮ আগস্ট এই আদালত এই শৃঙ্খলাবিধির গেজেট জারির নির্দেশনা দেয়। সে অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার শৃঙ্খলাবিধির গেজেট জারি করেছে। এই গেজেট আমরা পড়েছি। বিধিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রাইমেসি বজায় রাখা হয়েছে। আমরা এই বিধিমালা গ্রহণ করছি।’ আদালত আদেশে আরও বলেন, ‘২০১৬ সালে ২৮ আগস্ট এই আদালতের দেওয়া কিছু পর্যবেক্ষণ সরকার পক্ষ থেকে প্রত্যাহার চেয়েছিল। বিধি হয়ে গেছে। একারণে পর্যবেক্ষণ এখন অকার্যকর বলে প্রত্যাহার করা হলো। একটা সময়ের জন্য (ফর দ্যা টাইম বিং) বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হলো।’ এ সময় মাসদার হোসেন মামলার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এম আমির উল ইসলাম।আদেশের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, ‘এতদিন অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরি থেকে অপসারণ বা অন্যান্য শৃঙ্খলা বিধানের জন্য কোন আলাদা বিধি ছিল সেগুলি ছিল না। এখন আমরা আলাদা শৃঙ্খলাবিধির গেজেট করে তা আদালতে দাখিল করি। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে সেটা গ্রহণ করেছেন। আজকে থেকে এটা কার্যকর হবে।’অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘গেজেট জারির পর অনেকেই নানা রকম কলাম লিখছেন বা টক-শোতে বলছেন সুপ্রিম কোর্টের ক্ষমতা খর্ব হয়ে গেছে এটা সম্পূর্ণ ভ্রান্ত ধারণা। এই রুলসটা পড়লেই বোঝা যাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শে বিধান রাখা হয়েছে।’

Authors
Top