সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চান অ্যাটর্নি জেনারেল

mahbub a alom 1

ঢাকার মুন্সিগঞ্জ-২ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হয়ে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। আজ শনিবার দুপুরে মুন্সিগঞ্জের লৌহজং মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

শারদীয় দূর্গাপূজা উপলক্ষে স্থানীয় পূজা মণ্ডপে আর্থিক সহায়তা ও দুস্থ্য হিন্দুদের মাঝে কাপড় বিতরণ উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সে সময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। আমাদের দেশ হবে অসাম্প্রদায়িক। অসাম্প্রদায়িকতার জন্য আমরা আইনী লড়াই করেছি, এখনো করছি। দূর্গাপূজা হিন্দুদের একটি বড় উৎসব। কাজেই ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। এজন্যই নিজের অর্থায়নে আজ সামান্য কিছু অর্থ ও শাড়ি আপনাদের মাঝে বিতরণ করতে এসেছি। এমন অর্থে আপনাদের খুব উপকার হবেনা, কিন্তু যুক্ত করলাম মাত্র।

তিনি আরো বলেন, বঙ্গবন্ধু, জেলহত্যা, যুদ্ধাপরাধীদের মামলা পরিচালনা করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। এটা আমার জন্য বড় স্বার্থকতা। যুদ্ধাপরাধের প্রতিটি মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে আমি কেঁদেছি (নির্যাতনের ভয়াবহতা নিয়ে) এখনো কাঁদছি। সাম্প্রতিক রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে মাহবুবে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রয়োজনে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে খাবেন। এমন কথা যিনি বলতে পারেন তাকে শান্তিতে নোবেল দেয়া উচিৎ।

ড. ইউনুসকে যখন শান্তিতে নোবেল দেয়া হয় তখন আমি বলেছিলাম তাকে নোবেল দেয়া উচিৎ নয়। বাংলাদেশে শান্তিতে নোবেল পাওয়ার উপযুক্ত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সন্তু লারমা। অ্যাটর্নি জেনারেল অভিযোগ করে বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি কবিতা মনে পড়ে। সেখানে বলা হয়েছে “যুক্ত করো হে সবার সঙ্গে, মুক্ত করো হে বন্ধন”। ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আমি আওয়ামী লীগের এক মিটিং এ বসে ২ লাখ টাকা অনুদান দিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমার টাকা ফিরিয়ে দেন। পরে আমি ৫ লাখ টাকা খরচ করে নিজের উদ্দোগে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন করেছি।

তাই আমি বলছি আমার সঙ্গে গিরিঙ্গিবাজি করে লাভ নেই। আমাকে বিরত রাখতে তারা (আওয়ামী লীগ) ভুল করছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন মামলা পরিচালনার কারণে আমাকে আমার পরিবারকে কাফনের দিয়ে, মৃত্যুর হুমকি দেয়া হয়েছে। তবুও থামাতে পারেনি, আমি চলতে থাকবো।

পূজা উদযাপন পরিষদ লৌহজং শাখার সভাপতি শ্রী গোবিন্দ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল আলম, উপজেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আবুল বাশার, পুজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রী সমর কুমার ঘোষ, অধ্যাপক ড. আবু ইউসুফ ফকির প্রমূখ। সে সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান বলে মন্তব্য করেন। বক্তব্য শেষে এ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম মুন্সিগঞ্জের লৌহজং উপজেলার ৩২টি এবং টংগীবাড়ী ইউনিয়নের ৪৭টি মণ্ডপে নগদ আর্থিক অর্থ এবং কাপড় বিতরণ করেন।

Authors
  
Top