সিডনিতে শীতের পিঠা মেলা

p 1

আজাদ খোকন: পিঠা বাংলাদেশের সংষ্কৃতি আর ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশের যে কোন উৎসবে আনন্দে মিশে আছে রকমারি পিঠা।

বাংলাদেশে ১৫০ বা তারও বেশী রকমের পিঠা থাকলেও মোটামুটি ৩০ প্রকারের পিঠার প্রচলন সবচেয়ে বেশি। নকশি পিঠা, চিতই পিঠা, রস পিঠা, ডিম চিতই পিঠা, দোল পিঠা, ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, পাকান, আন্দশা, কাটা পিঠা, ছিট পিঠা, গোকুল পিঠা, চুটকি পিঠা, মুঠি পিঠা, জামদানি পিঠা, হাড়ি পিঠা, চাপড়ি পিঠা, পাতাপিঠা, ঝুড়ি পিঠা – এমনি আরও কত নাম।

তবে শীতের সাথেই পিঠার সম্পর্ক নিবির। প্রবাসে বেড়ে উঠা নুতন প্রজন্মের কাছে এই পিঠা অনেকটাই অধরা। কিন্তু আশার কথা হচ্ছে, পিঠার এই ঐতিহ্য টিকে আছে এবংপ্রবাসেও ছড়িয়ে পড়ছে। প্রবাসের বিভিন্ন সংগঠন এবং ব্যক্তি কিংবা গোষ্ঠির উদ্যোগে পিঠা উৎসব বা পিঠা মেলারও আয়োজন করছে। সারা সিডনি জুড়ে শীতের আয়োজনে চলেছে বর্নিল পিঠা উৎসব। আর এরই মধ্য দিয়ে দেশের শহুরের মত প্রবাসেও প্রসার ঘটছে আমাদের পিঠা সংস্কৃতির।

প্রতিবারের মতো গত গত ৩০ অগাস্ট শীতের রবিবারে সিডনীর গ্লেনফিল্ডস্থ কয়েকটি বাংলাদেশী পরিবার ভিলার পিছনের আঙিনায় পারিবারিক পিঠা উৎসবের আয়োজন করে।

ঐদিন সকাল থেকেই পিঠা শিল্পী ভাবীরা রকমারি পিঠা তৈরিতে ব্যস্ত ছিলেন। অন্যরা একের পরএক গরম গরম ভাপা পিঠা বানিয়ে আর বাসা থেকে বানিয়ে আনা রকমারি পিঠায় সাজিয়ে তুলেছিলেন পিঠা উৎসবের কলাপাতায় টেবিল। সেখানে বেতের ঝুড়িতে থরে থরে শোভা পাচ্ছিল ভাপা-পিঠা, চিতই, মুগ-পাকন, মুগ-পুলি, পাটিসাপটা, নারিকেল, তেলের, তিলের আরো নানা ধরনের আকর্ষণীয়, সুস্বাদু পিঠা ও লোভনীয় পিঠা।

দিনের শেষে পরিবেশিত হয় দেশীয় স্বাদের চা ও পান-সুপারি।

পারিবারিক এই পিঠা উৎসবের আয়োজন প্রবাসে বাংলার গ্রামীণ সংস্কৃতির কথা উপস্থিত সবাইকে মনে করিয়ে দেয়।

p 2 p 3 p 4 p 5

Authors
Top